টেলিভিশনের ঝাঁ চকচকে দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে কত না অজানা কাহিনি! ক্যামেরার আলো নিভে গেলে সম্পর্কের রং বদলায়, ভেসে আসে বাস্তব জীবনের টানাপোড়েন। দর্শক যাদের রিল লাইফ জুটিকে পছন্দ করেন, তাদের রিয়েল লাইফে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। আর সেই কৌতূহলই আরও বেড়েছে অভিনেতা সায়ন্ত মোদক (Sayanta Modak) এবং তার প্রাক্তন প্রেমিকা কিরণ মজুমদার (Kiran Majumdar)-এর সাম্প্রতিক ভিডিও ঘিরে। কয়েকদিন আগেই সায়ন্ত তার ইউটিউব চ্যানেলে কিরণের সঙ্গে ব্রেকআপ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন। এরপরেই কিরণও তার দিকের সত্য সামনে আনেন, যা নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
তবে এখানেই থামেনি বিতর্ক। কিরণের এই ভিডিওর নিচে সায়ন্তর আরেক প্রাক্তন প্রেমিকা দেবচন্দ্রিমা (Debchandrima)-র বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে। এতদিন যিনি এই বিষয় নিয়ে একেবারেই চুপ ছিলেন, এবার তিনিও মুখ খুললেন। আর মুখ খোলার পর থেকেই আরও বড় আকার নিল এই বিতর্ক। দেবচন্দ্রিমা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চার বছর ধরে সম্পর্কে থাকার পরেও তিনি কখনোই ব্যক্তিগত কথা সামনে আনতে চাননি, কারণ তিনি প্রাক্তন সঙ্গীর সম্মান রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিরণের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা দেখার পর তারও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এবার তিনি নিজের দিকের সত্যি সকলের সামনে আনতে বাধ্য হলেন।
দেবচন্দ্রিমা তার ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি একটি বড় ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তিনি জানান, সায়ন্ত সম্পর্কে থাকাকালীন তার সঙ্গেও অনেক খারাপ ব্যবহার করতেন। সম্পর্কের চার বছরে তিনি অনেক সহ্য করেছেন, কিন্তু কখনোই কিছু বলেননি। কারণ তিনি মনে করেছিলেন, যা শেষ হয়ে গেছে, তা নিয়ে বিতর্ক না করাই ভালো। তবে এবার যখন দেখলেন, সায়ন্ত কিরণকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করছেন, তখন আর চুপ থাকতে পারলেন না। দেবচন্দ্রিমার অভিযোগ, সায়ন্ত ‘Sympathy Gainer’ অর্থাৎ সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজের পোষ্য সারমেয় ‘বে’-কে ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, “আমি জানি আপনি এখনো বে-কে মাধ্যম করে অনেক মেয়ের মন জেতার চেষ্টা করেন। হাতজোড় করে বলছি, দয়া করে এসব করবেন না! কারণ ও যখন ছিল, তখন ওকে মাধ্যম করে আপনি শুধু ভিডিও বানিয়েছেন। আমার মতন ওরাও ছিল এক একটা শো-পিস।” দেবচন্দ্রিমার কথায়, সায়ন্ত আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সহানুভূতি আদায় করার জন্য একের পর এক নাটক করে চলেছেন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের নিজেদের মধ্যেই ‘যুদ্ধ’! উপপ্রধানকে মারধর, থানার ভেতরেও সংঘর্ষ!
দেবচন্দ্রিমা আরও জানান, সায়ন্ত যে খুব ভালোবাসার কথা বলতেন, তা আদৌ সত্যি নয়। বরং তিনি শুধুমাত্র ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতেন। তার কথায়, “আপনি যদি সত্যিই ওদের ভালোবাসতেন, তাহলে শুধু ভিডিও বানাতেন না, বরং রোজ মনে করতেন ওদের কথা। একটা বলও তো কোনদিনও কিনে দেননি।” এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আরও একটা মিথ্যে বললে, আমি নিজেই আপনার বাড়ি গিয়ে থাপ্পড় মেরে আসব!”
এই বিতর্ক সামনে আসার পর সংবাদমাধ্যমও দেবচন্দ্রিমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি। এমনকি সায়ন্তর আরও একাধিক প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তারাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কিন্তু সায়ন্ত ফোন ধরে নিজের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। দেবচন্দ্রিমার বক্তব্য, “আপনি একমাত্র ফোন তুলেছেন কারণ আপনার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার দায় আছে।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সায়ন্ত এবং দেবচন্দ্রিমার এই লড়াই নিয়ে চর্চা চলছে। অনেকেই বলছেন, এতদিন পরে কেন মুখ খুললেন দেবচন্দ্রিমা? কেউ আবার বলছেন, সায়ন্ত কি সত্যিই দোষী? সব মিলিয়ে, এই টেলি-তারকাদের ব্যক্তিগত ঝামেলা এখন জনতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে!





