বলিউডের জনপ্রিয় সুরকার সেলিম মার্চেন্টকে নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা অনেকের নজর কেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার তিনি জুম্মার নামাজ পালন করেন। আবার সপ্তাহের শুরুতেই, অর্থাৎ সোমবার, তিনি শিবের পুজো করেন। এই দুই ভিন্ন ধর্মীয় আচরণ একসঙ্গে পালন করার বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি দুই ধর্মের আচার একসঙ্গে পালন করেন। এই প্রসঙ্গেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সুরকার নিজেই।
সেলিম মার্চেন্টের সঙ্গীতজীবন বহু জনপ্রিয় গানে ভরা। তার সুর করা গানগুলোর মধ্যে ‘সুক্রআল্লা’, ‘মওলা মেরে’ এবং ‘সইয়াঁ’ বিশেষভাবে পরিচিত। তার গানে প্রায়ই আল্লাহর নাম উঠে আসে, যা তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রকাশ করে। তবে শুধু ইসলাম নয়, হিন্দু ধর্মীয় ভাবনাও তার কাজে প্রতিফলিত হয়। শিবরাত্রির সময় প্রতি বছর তিনি একটি বিশেষ গান প্রকাশ করেন। এই বিষয়টিও অনেকের কাছে বিস্ময়ের কারণ হয়েছে। তবে সেলিম বরাবরই তার সৃষ্টির মাধ্যমে ভিন্ন ভাবনার পরিচয় দিয়েছেন।
জন্মসূত্রে মুসলিম হলেও নিজের পরিচয়কে তিনি একটি সীমার মধ্যে আটকে রাখেন না। গত বছর পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর তিনি খোলাখুলি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, মুসলমান হিসেবে তিনি লজ্জিত বোধ করছেন। এই মন্তব্যও যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়াও, এ আর রহমানের একটি মন্তব্যের বিরোধিতাও করেন তিনি। রহমান বলেছিলেন, মুসলিম হওয়ায় কখনও কখনও কাজ কম পান তিনি। কিন্তু সেলিম এই মতের সঙ্গে একমত হননি এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সেলিম মার্চেন্ট জানিয়েছেন, তিনি সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রাখেন। তার মতে, ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার জন্য নয়। বরং এটি মানুষের আত্মিক উন্নতির পথ দেখায়। তিনি বলেন, শুক্রবার জুম্মা পড়ার পর সোমবার শিবের পুজো করা তার কাছে স্বাভাবিক বিষয়। এই নিয়ে সমালোচনা হলেও তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। তার কথায়, তিনি কোনও একটি ধর্মের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং সব ধর্মের মধ্যেই তিনি এক ধরনের মিল খুঁজে পান।
আরও পড়ুনঃ ৩৩ বছর পার, আজও ধোঁয়াশা কাটেনি! বলিউডের ‘স্বপ্নসুন্দরী’, দিব্যা ভারতীর মৃ’ত্যুর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? জানলে চমকে যাবেন!
সুরকার আরও জানান, তার কাছে ঈশ্বর এবং সঙ্গীত একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই সম্পর্ক তিনি কথায় বোঝাতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন। তার মতে, সঙ্গীতই তাকে সব ধর্মের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এ কারণেই তিনি ভিন্ন ধর্মের আচার পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তার এই ভাবনা অনেকের কাছে নতুন হলেও, তিনি এটিকে নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস বলে মনে করেন। সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি নিজের পথে অটল রয়েছেন। এভাবেই তিনি নিজের জীবন ও সঙ্গীতকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।





