রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু পর, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্পী, প্রযোজক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময়ই ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর, সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মন্তব্য দেখা যায়, বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এই সিদ্ধান্তটি একতরফাভাবে নিয়েছেন।
এরপর, অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তিনি বলেন, “রাহুলের মৃত্যুর পর, আর্টিস্ট ফোরাম চিঠি পাঠায় প্রযোজনা সংস্থাকে, কিন্তু তখনও প্রশ্ন উঠছিল। সকলেই বলছিলেন, আর্টিস্ট ফোরাম তো কিছুই করছে না। তবে যখন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় উদ্যোগ নিয়ে সবাইকে একত্রিত করেন, তখনও কেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ?” সুরজিৎ দাবি করেন যে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে, তা অযৌক্তিক।
সুরজিৎ আরও বলেন, “রাহুলের মৃত্যু প্রসেনজিৎকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। তিনি শুধু নিজের স্বার্থে নয়, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন। যেখানে অন্যরা নিষ্ক্রিয় ছিল, সেখানে তিনি সক্রিয় হয়েছেন।” প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে ‘ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা সুরজিৎ ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। তাঁর মতে, এমন আক্রমণ শিল্পী এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
শ্রীলেখা মিত্রের প্রসঙ্গও উঠে আসে সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “একজন অভিনেত্রী তাঁর নিজের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে শো-তে কান্নাকাটি করতে এসেছেন। এই আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” সুরজিৎ অভিযোগ করেন, শ্রীলেখা মিত্র যেভাবে মিডিয়ার সামনে নিজের কান্না দেখিয়ে মনোযোগ পেতে চেয়েছেন, তা ঠিক হয়নি। তার মতে, শিল্পীদের মধ্যে এ ধরনের প্রচারমূলক আচরণ শুধু পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
সুরজিৎ শেষ পর্যন্ত বলেন, “এতদিন সক্রিয় না থাকার জন্য যে অভিযোগ ছিল, এখন সক্রিয় হলে সেটাও সমালোচিত হচ্ছে। এটা মোটেও সঠিক নয়।” তার মতে, শিল্পী-প্রযোজক-অভিনেতা সবাই মিলে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, এবং সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা গণতান্ত্রিকভাবেই গ্রহণ করা উচিত।





