গত শনিবার, সুদীপা চট্টোপাধ্যায় আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, শারীরিক ও মানসিক চাপের ফলে তার শরীর ভালো কাজ করছিল না। খাবার, বিশ্রাম এবং ঘুমের অভাবে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং সেই অবস্থায় সুদীপা মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যান। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কিছুদিন চিকিৎসার পর বুধবার তাকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন, তিনি হাসপাতালে যান তার স্বামী অগ্নিদেবকে বাড়ি নিয়ে আসতে, এবং সেখানেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে, বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।
সুদীপা জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে তাঁর জীবন এক ধরনের চাপের মধ্যে ছিল। তার ৭ বছরের ছেলে আদিদেবকে নিয়ে একদিকে হাসপাতাল এবং অন্যদিকে ঘরবাড়ির কাজ সামলাতে হয়েছে। পাশাপাশি, স্বামী অগ্নিদেবের শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। যদিও অগ্নিদেব এখন কিছুটা সুস্থ, তবে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে তার আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অগ্নিদেবের শরীর এখনও দুর্বল এবং তার প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই তাকে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে, অগ্নিদেবের শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়েছিল। মাইগ্রেনের মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিলে তিনি প্রথমে তা গুরুত্ব দেননি। পরে, তার অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দেন এবং তিনি বাড়ি ফিরে যান। এই সময়ে সুদীপা একাই সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন—স্বামী ও ছেলের দেখভাল করতে গিয়ে তার শরীরও খারাপ হয়ে পড়েছিল।
তবে, সুদীপা এখন বিপদমুক্ত এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বাড়ি ফিরে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার অসুস্থতার মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন। সুদীপা বলেন, “শরীরের সংকট মানসিক চাপের ফলস্বরূপ হয়েছে, তবে এখন সুস্থ।” অগ্নিদেবের চিকিৎসা এবং পরিবারের অন্যান্য কাজকর্মের মাঝে সুদীপা এই বিপত্তি সামলেছেন এবং এখন তিনি কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ “ধারাবাহিকের বন্ধ হতেই যত শোক প্রকাশ, রাহুলের মৃ’ত্যুতে বিচার চেয়ে কটা কথা বলেছিলেন?” ‘চিরসখা’ বন্ধ হওয়ায় রাজ ও ভিভানের ক্ষোভ! নাম না করেই একহাত নিলেন জয়জিৎ?
অগ্নিদেব এবং সুদীপার সম্পর্ক ছিল অনেক চ্যালেঞ্জের। ২০১৭ সালে আইনি বিয়ের পরেও তারা বহু বছর একসঙ্গে লিভ ইন করেছিলেন। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তারা একে অপরকে সমর্থন করে এসেছেন। ২০১৮ সালে তাদের একমাত্র ছেলে আদিদেব জন্মগ্রহণ করে। ২১ বছরের বয়সের পার্থক্য সত্ত্বেও, সুদীপা অগ্নিদেবকে শুধুমাত্র স্বামী নয়, একজন গুরু বা মেন্টর হিসেবেও দেখেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “অগ্নিদেবই আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়।”





