টলিপাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একের পর এক অভিনেতা, কলাকুশলী এবং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ এই বিষয়ে মুখ খুলছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যও নিজের বক্তব্য সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু তিনি নন, আরও অনেকেই আগে থেকেই এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে সেই সময় তাঁদের কথা খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর সেই পুরনো অভিযোগগুলিই আবার সামনে চলে এসেছে।
অনির্বাণ ভট্টাচার্য বলেন, “শুধু আমি নই, অনেকে লড়াই করেছিল। অনেকের প্রচুর ক্ষতিও হয়েছে। যাঁরা নেপথ্যে থাকেন, সেই টেকনিশিয়ানরা খানিকটা হলেও অভিনেতাদের থেকে উপার্জনগত বা গ্ল্যামারের দিক থেকে পিছিয়ে থাকেন। অনিশ্চয়তা, অসুবিধার মধ্যে থাকেন। তাঁরা অনেক বেশি ভুগেছেন। সেটা গতকাল স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি, তা নয়। আমরা আগে থেকেই জানি। জানি বলেই আমরা এই নিয়ে কথা বলেছিলাম।” উল্লেখ্য, অতীতে ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যান কালচারের শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছিল অনির্বাণের ক্ষেত্রে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই এবং তৃণমূলের নিউ আলিপুর অঞ্চলের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবেও পরিচিত। গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে আলিপুর আদালত ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। গত কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ায় নানা অভিযোগ নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছিল। দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে একাধিক নাম সামনে এলেও স্বরূপ বিশ্বাসের নাম বারবার উঠে আসছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এই গ্রেফতারি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকেনি প্রথম সংসার! সৌরভের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর, বছরের শুরুতেই শৈশবের বন্ধু দেবমাল্যকে বিয়ে! দ্বিতীয় বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় আবার পিঁড়িতে মধুমিতা সরকার!এবার পাত্র কে?
পুলিশ সূত্রের দাবি, নিউ আলিপুর এবং টালিগঞ্জ এলাকার একাধিক নির্মাণ ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তোলা আদায়, ভয় দেখানো এবং চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ ছিল স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নতুন বহুতল বা আবাসন প্রকল্প শুরু করতে গেলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হতো। কেউ সেই দাবি না মানলে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে কোটি টাকার তোলা দাবি এবং হুমকির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং পরে স্বরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিমরন পাল নামে এক অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ জুন ২০২৬ নিউ আলিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ৭৫(১)(ii), ৩০৮(৪), ৩০৮(৫), ১০৯, ৩৫১(৩) এবং ৬১ ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে তোলা আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, টালিগঞ্জ ও নিউ আলিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। অন্যদিকে বিরোধী শিবির দাবি করেছে, এই গ্রেফতারি রাজ্যে সিন্ডিকেটরাজ এবং তোলাবাজির অভিযোগেরই প্রতিফলন। বিজেপির বক্তব্য, “একে একে সব তোলাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






