আজ বিজয়া দশমী। করোনা আবহের মধ্যেই গত পাঁচ দিন ধরে বাংলা একটুখানি আনন্দের মুখ দেখেছিল দুর্গাপূজার হাত ধরে। সুরক্ষা বিধি মেনেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় করা হয়েছিল থিম প্যান্ডেল তার মধ্যে যে মণ্ডপটি এই পাঁচ দিনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে সেটি হল কলকাতার বড়িশা ক্লাবের প্যান্ডেল এবং প্রতিমা।
লকডাউন এর সময় করুণ পরিস্থিতির জন্য পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের ঘরে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন। স্ত্রী সন্তানকে কাঁধে নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে নিজেদের বাড়ি পৌঁছে ছিলেন তারা। এবার বরিশা ক্লাবের মাতৃমূর্তি তে ফুটে উঠেছিল এক পরিযায়ী শ্রমিকের চেহারা। মা এখানে পরিযায়ী মহিলা শ্রমিকের রূপ নিয়েছেন যার কোলে রয়েছে শিশু সন্তান। শিল্পী পল্লব ভৌমিক এই মূর্তিটি করেছেন এবং তিনি নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন মাত্র দু মাসের মধ্যে। বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল এই মূর্তির ছবি এবং তা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। কিন্তু এই যে পরিযায়ী শ্রমিকরুপী মা এর উৎসের যে ক্রেডিট কিন্তু তা কিন্তু পল্লব ভৌমিকের নয়। আসল শিল্পী কে জানেন?
তার নাম শিল্পী বিকাশ ভট্টাচার্য। ১৯৮৯ সালে শিল্পী বিকাশ ভট্টাচার্যের ‘দর্পময়ী মা’ নামে একটি ছবির থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মূর্তিটি গড়েছেন এই শিল্পী পল্লব ভৌমিক। কিন্তু বিকাশ বাবুর নাম প্রচারের আলোয় সেরকম ভাবে আসেনি। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার নাম জনসমক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হলো।
স্বাভাবিকভাবেই প্রতিমা দেখতে এই বছর সুরক্ষা বিধি মেনেই প্যান্ডেলে এসেছিলেন দর্শকরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই মন্ডপের এবং প্রতিমার প্রচুর ছবি শেয়ার হয়েছে। করোনা দুর্গাপুজোর আবহকে বেশ কিছুটা ম্লান করে দিলেও একেবারে মুছে দিতে পারেনি তার কারণ হয়তো দুর্গা মায়ের আশীর্বাদ এবং বাঙালিদের ব্যাকুল ইচ্ছা।





