পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। অবাধ, সুষ্ঠু এবং সহিংসতামুক্ত নির্বাচন করাই মূল লক্ষ্য বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। ভোটের আগে ভীতি প্রদর্শন, রাজনৈতিক চাপ বা অশান্তি যাতে কোনওভাবেই প্রভাব ফেলতে না পারে, সেজন্য রাজ্যজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের ঠিক আগে এবং ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটরসাইকেল ব্যবহারের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের অন্তত দু’দিন আগে থেকেই কোনও ধরনের মোটরসাইকেল র্যালি বা শোভাযাত্রা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালানোয় কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যদিও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি, পারিবারিক প্রয়োজন বা বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিয়মের কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। আবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পিলিয়ন রাইডিং বা বাইকে দ্বিতীয় আরোহী বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করে কোনওরকম ভীতি প্রদর্শন বা অশান্তি তৈরি করা না যায়।
ভোটের দিন কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে সাধারণ ভোটারদের কথা মাথায় রেখে। সেদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ভোট দিতে যাওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করা যাবে। তবে তার বাইরে কোনও অপ্রয়োজনীয় চলাচল বা জমায়েত বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট করেছে প্রশাসন। এছাড়া কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে হলে স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা ও ব্লক স্তরে এই নির্দেশগুলি ব্যাপকভাবে প্রচার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ আগেভাগেই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
এদিকে শুধুমাত্র নিয়ম জারি করেই থেমে থাকছে না নির্বাচন কমিশন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে তারা সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারবে, এমন ইঙ্গিত মিলেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে প্রতিটি এলাকায় কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের হাতে থাকবে।
আরও পড়ুনঃ অর্কজ্যোতির জন্মদিনে জিতুর কেক কাণ্ড ঘিরে চর্চা! আনন্দের মাঝে টানাপোড়েনের ছায়া! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেটে, পায়েল-শিরিন বনাম জিতু দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত পরিস্থিতি?
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ভোটের সময় নিয়মিত রুট মার্চ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে। কোথাও কোনও সমস্যা বা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার জন্য কুইক রেসপন্স টিমও গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলির গাড়িতে ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে, যাতে প্রতিটি মুহূর্তের পরিস্থিতি নজরে রাখা যায়। পাশাপাশি দুর্গম বা যানবাহনবিহীন এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে বাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা ও হাওড়ার মতো জেলাগুলিতে এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। শীতলকুচির অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে লাঠিও দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। সব মিলিয়ে এবারের ভোটে নিরাপত্তা এবং নজরদারির ক্ষেত্রে কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।





