ভাত নাকি রুটি? কার পাল্লা ভারী, গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে কোনটা খাবেন জেনে নিন কী বলেছেন পুষ্টিবিদরা

Nutrition benefits of Roti and Rice: এখন সকলেই নিজেদের শরীর নিয়ে বেশ সচেতন। ‌ তার জন্য ডায়েট মেন্টেন করেন অনেকেই। ‌ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কলেজ পড়ুয়াদের খাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। বেশিরভাগ কলেজ পড়ুয়া ওজন কমিয়ে ছিপছিপে হতে চায়। ওজন কমানোর জন্য খাওয়া দাওয়া নিয়ে নিজের মতো করেই নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেন অনেকে। সেসব নিয়ে বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় তর্কবিতর্ক হতেই থাকে। টিনেজারদের মধ্যে এমন দেখা যায় যে ভাত ছেড়ে দিচ্ছে ওজন কমানোর জন্য। ‌খেলেও সেটা খুবই কম (Nutrition benefits of Roti and Rice)। ‌ তারা বেশিরভাগই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে রুটিটাই পছন্দ করে। ‌

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য এই তীব্র গরমে অনেকেই ভাত খাচ্ছেন না। সেসব নিয়ে প্রায় ঝামেলা চলছে বাড়িতে। তবে বাড়িতে মা ঠাকুমারা মনে করেন গরমের রুটি খেলে পেট গরম হয়। বেশি অস্বস্তি হয়। ভাত খেলে স্বস্তি পাওয়া যায় গরমে। কিন্তু এসব টিনেজারদের কাছে স্বস্তি পাওয়ার চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে রোগা হওয়াটা বা ওজন নিয়ন্ত্রণ করাটা। তবে গরমে কোনটা খাওয়া বেশি ভালো রুটি নাকি ভাত (Nutrition benefits of Roti and Rice)? কোন খাবারটা খেলে শরীর ঠান্ডা থাকবে তীব্র গরমে, তা নিয়ে অনেকেই অনেক রকম কথা বলেন। ‌ অনেকের মতে ভাত সবচেয়ে স্বস্তিকর। অনেকে জল ঢেলে পান্তা ভাত খেতে পছন্দ করেন। তবে এই গ্রীষ্মকালে রুটি খাওয়া বন্ধ করে দেবেন এটা কি উচিত? যারা মনে করেন গরমে ভাত খেলেই তাদের শরীর ঠিক থাকে তাদের রুটি খেলে পেটের গোলমাল দেখা যায়, তাই তারা ভাতটা বেছে নেন (Nutrition benefits of Roti and Rice)। ‌

স্বাস্থ্য গুণের দিক দিয়ে বিচার করলে ভাতে রয়েছে ভিটামিন বি, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রনের মতো উপাদান। ভাতে রয়েছে ম্যাগনেশিয়ামের উপাদান, যা পেশির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, পেশী সচল রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এমনকি ভাতে কার্বোহাইড্রেট থাকায় তা পেটের যত্ন নিতে সক্ষম। আবার পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে রুটিকে বিচার করলে রুটিতে রয়েছে ফাইবার যা ডায়াবেটিস কোলেস্টেরলের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। কিন্তু ও শরীর ঠান্ডা রাখতে কে বেশি সক্ষম ভাত না রুটি। আসুন জেনে নেওয়া যাক পুষ্টিবিদরা কি বলছেন (Nutrition benefits of Roti and Rice)। ‌

পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের কথায়, “ভাত খেলে শরীর ঠান্ডা থাকবে আর রুটি খেলে বেশি গরম লাগবে, এই ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। খাওয়াদাওয়া একান্তই ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। ভাতে জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি। তাই গরমে ভাত খাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবে আলাদা তৃপ্তি হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে রুটি খাওয়া যাবে না। রুটি খেয়ে কেউ যদি হজম করতে পারেন, তা হলে কোনও সমস্যা নেই। আবার কারও যদি মনে তিন বেলা ভাত খাবেন, সেটাও খেতে পারেন। তবে হজমের গোলমাল থাকলে রুটি না খাওয়াই ভাল। শারীরিক কোনও সমস্যা না থাকলে, ভাত হোক কিংবা রুটি— সব কিছুই পরিমাণ মতো খেয়ে সুস্থ থাকা যায়” (Nutrition benefits of Roti and Rice)

সুতরাং ভাত বনাম রুটি, এই বিতর্কের কোনও সঠিক জবাব পাওয়া কঠিন। অনন্যার মতে, “ভাতের মধ্যে শীতলভাব বেশি এ কথা অস্বীকার করা যায় না। তবে রুটি খেয়ে যদি হজম করা যায়, তবে তাতেও কোনও সমস্যা নেই (Nutrition benefits of Roti and Rice)। রাতে বাঙালিরা রুটি খেতেই বেশি পছন্দ করেন। গরমে হজমের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তা সত্ত্বেও বলছি, রাতে রুটি খাওয়ায় কোনও বারণ নেই, যদি সকালে উঠে শরীর খারাপ না হয়। তবে ভাত বা রুটি- যাই খান, গ্রীষ্মকালে পরিমাণ কমিয়ে খাওয়াই ভাল। শরীর ঝরঝরে থাকবে পরদিন”।

আরও অন্যান্য খবর