অভিনেতা দিগন্ত বাগচী আর্টিস্ট ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। জানা গিয়েছে, গত শনিবার তিনি নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন এবং রবিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হওয়া মাসিক বৈঠকে সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় রবিবারের মতো এবারও ফোরামের বৈঠক বসেছিল সেখানে। সেই বৈঠকেই উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে দিগন্তর ইস্তফা মেনে নেওয়া হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সংগঠনের তরফে এ নিয়ে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে দিগন্তর পদত্যাগ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আচমকা এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়েই কৌতূহল বাড়ছে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত, ভরত কল, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন, দেবদূত ঘোষ, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং বাসক দত্তা চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। সকলের উপস্থিতিতেই দিগন্তর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ফোরামের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সরে দাঁড়ানো মেনে নেওয়া হয়। যদিও বৈঠকের পরে সংগঠনের কোনও সদস্য প্রকাশ্যে বড় মন্তব্য করেননি। তবে বিষয়টি যে সংগঠনের ভিতরে গুরুত্ব পেয়েছে, তা স্পষ্ট। দিগন্তর এই সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়েছেন বলেও খবর।
পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন দিগন্ত বাগচী। তিনি জানান, এর আগেও একবার তিনি ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন হয়েছিল এবং তার কয়েকদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথমবার পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখন সংগঠনের শীর্ষ সদস্যরা তাঁকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বলেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, চিরঞ্জিত এবং শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় নাকি তাঁকে তখন ইস্তফা না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ সেই সময় নতুন কমিটি মাত্র কাজ শুরু করেছিল। সকলের কথা ভেবেই তিনি তখন নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বলে জানান দিগন্ত।
তবে এবার আর নিজের অবস্থান বদলাননি অভিনেতা। দিগন্ত জানান, গত শনিবার রাতেই তিনি স্থির করেন যে আর কমিটিতে থাকতে চান না। কারও কিছু বলার আগেই তিনি নিজে থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করে কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানাননি, তবুও তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ বা সংগঠনের ভিতরের কোনও সমস্যা কি এর পিছনে কাজ করেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে দিগন্ত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর দাবি, নিজের সম্মান এবং বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: “সব মনে রেখেছি, এবার মামলা তুলব” বিজেপির জয়ী আইনজীবী হুঁশিয়ারি তরুণজ্যোতি তিওয়ারির! ভোট মিটতেই পুরনো খুলছে ফাইল! বনগাঁ বিতর্কে ফের অস্বস্তিতে মিমি চক্রবর্তী?
দিগন্ত আরও বলেন, অনেকেই তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন এবং তাঁকে নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কাউকে কখনও হুমকি দেননি এবং যদি কারও কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ্যে আনা হোক। এদিকে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন চিরঞ্জিতও। তিনি বলেন, সংগঠনের কাছে দিগন্তর বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি। শুধু দিগন্ত নয়, ভরত কলের বিরুদ্ধেও তেমন কোনও অভিযোগ নেই বলে জানান তিনি। ফলে এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংগঠনের অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন। পুরো ঘটনা এখন টলিপাড়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






