“প্রধানমন্ত্রী ঢোকার পরেও চেয়ার ছাড়েননি…” আইপিএস অফিসারদের বিরুদ্ধে ‘অসৌজন্য’র অভিযোগে তোলপাড় নেটদুনিয়া! ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানেই কেন ক্ষুব্ধ স্বপন দাশগুপ্তর স্ত্রী রেশমি?

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং উৎসবের আবহ তুঙ্গে, তখন সেই অনুষ্ঠান থেকেই সামনে এল নতুন বিতর্ক। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তের স্ত্রী রেশমি দাশগুপ্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে দুই আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপির কয়েকজন নবনির্বাচিত বিধায়ক দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও সামনের সারিতে বসে থাকা দুই পুলিশ আধিকারিক তাঁদের জন্য জায়গা ছাড়েননি। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া।

রেশমি দাশগুপ্ত তাঁর পোস্টে দাবি করেন, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ অন্তত পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুই আইপিএস অফিসারকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাঁরা বিধায়কদের বসার জন্য জায়গা করে দেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই অনুরোধে কোনও সাড়া মেলেনি। তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষ পর্যন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বিধায়কদের বসার ব্যবস্থা করে দিলেও ওই দুই আধিকারিক নিজেদের জায়গা ছাড়তে রাজি হননি। এখানেই থেমে থাকেননি রেশমি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে প্রবেশ করার সময়ও এক মহিলা আইপিএস অফিসার উঠে দাঁড়িয়ে সৌজন্য দেখাননি। এই আচরণকে তিনি ‘খাকি উর্দির দম্ভ’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

যে দুই পুলিশ আধিকারিককে ঘিরে বিতর্ক, তাঁদের মধ্যে একজন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলে জানা গিয়েছে। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর পাশে বসে থাকা এক পুরুষ আইপিএস আধিকারিক খানিকটা সরে গিয়ে জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পরে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে পাপিয়া সুলতানা বলেন, তিনি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন এবং এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে রেশমি দাশগুপ্ত সরাসরি তাঁকে ট্যাগ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, প্রোটোকল মেনেও কি প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সময় এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একাংশের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি এমন ব্যবহার অনুচিত এবং তা অসম্মানজনক। আবার অন্য একটি অংশ মনে করছে, গোটা বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। অনেক নেটিজেনই ‘অর্ডার অফ প্রিসিডেন্স’ বা সরকারি প্রোটোকলের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি অনুষ্ঠানে কোন পদমর্যাদার ব্যক্তি কোথায় বসবেন, তার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, বিধায়কদের জন্য আলাদা কোনও প্রোটোকল র‍্যাঙ্কিং না থাকায় আইপিএস আধিকারিকদের বসার ক্ষেত্রে কোনও নিয়মভঙ্গ হয়নি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভিড় এবং পর্যাপ্ত আসনের অভাব থেকেই এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: “সব মনে রেখেছি, এবার মামলা তুলব” বিজেপির জয়ী আইনজীবী হুঁশিয়ারি তরুণজ্যোতি তিওয়ারির! ভোট মিটতেই পুরনো খুলছে ফাইল! বনগাঁ বিতর্কে ফের অস্বস্তিতে মিমি চক্রবর্তী?

 

তবে বিতর্ক যতই বাড়ুক, রেশমি দাশগুপ্ত নিজের অভিযোগে এখনও অনড়। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র চেয়ার বা বসার জায়গার বিষয় নয়, বরং নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রশ্ন। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মর্যাদাকে আঘাত করেছে। পাশাপাশি ওই দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে। কারণ, বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা নয়, বরং প্রশাসনিক আচরণ, প্রোটোকল এবং রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের প্রশ্ন হিসেবেও সামনে আসছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর