ভোটের মরশুম এলেই কলকাতার বাতাসে যেন আলাদা একটা টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। রাস্তাঘাটে বাড়তে থাকে রাজনৈতিক মিছিল, স্লোগান আর পাল্টা স্লোগানের লড়াই। তবে কখনও কখনও সেই উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার ভবানীপুর এলাকায় এমনই এক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল শহর।
বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে এদিন ভবানীপুরে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই উপলক্ষে রাজ্যে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রোড শো করে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। শুরু থেকেই রাস্তায় ভিড় বাড়তে থাকে, সমর্থকদের স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা।
রোড শো চলাকালীনই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। তৃণমূল কর্মীরা কালো পতাকা ও কালো কাপড় নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অন্যদিকে বিজেপি কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন। মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হতেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রথম থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছিল, তবে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়তে থাকে।
রোড শো যখন কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে পৌঁছয়, তখন পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে জুতো ছোড়াছুড়িরও। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়।
আরও পড়ুনঃ হনুমান জয়ন্তীতে শুভ যোগ! কপাল খুলে যাবে এই পাঁচ রাশির জাতক জাতিকার! বজরংবলীর কৃপায় হবে বিরাট উন্নতি!
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। কনভয় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় অমিত শাহকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ছোট গাড়িতে করে বাকি রাস্তা পার করানো হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও উত্তেজনা বজায় ছিল। শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে গোটা ঘটনায় ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকরা।





