আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস মানেই বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও সংগ্রামের উদযাপন। কিন্তু এবারের ১ মে ঘিরে নয়ডা শহরের চিত্র একেবারেই আলাদা। উৎসবের আবহের বদলে গোটা শহর যেন ঢেকে গেছে কড়া নিরাপত্তার চাদরে। শ্রমিক সংগঠনগুলির সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জমায়েত ঠেকাতে প্রশাসন আগেভাগেই নিয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। ফলে উৎসবের আনন্দের জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা ও সতর্কতার আবহ।
এই পরিস্থিতিতে গৌতমবুদ্ধ নগর জেলায় জারি হয়েছে নতুন আইনি বিধিনিষেধ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩ এর ১৬৩ ধারার আওতায় একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে শ্রমিক দিবসেও শ্রমিকদের একত্রিত হওয়ার অধিকার কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে, তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক।
শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে নয়ডাকে ভাগ করা হয়েছে একাধিক জোন ও সেক্টরে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও শিল্পাঞ্চলগুলিতে চলছে কড়া নজরদারি। ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে আকাশপথ থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পরিস্থিতি। প্রায় ৫০টি এলাকা চিহ্নিত হয়েছে স্পর্শকাতর হিসেবে, যেখানে বিশেষভাবে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। প্রযুক্তির এই ব্যবহার প্রশাসনের প্রস্তুতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী। উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী এবং বিশেষ বাহিনী PAC মাঠে নেমেছে। এই বিশাল আয়োজন দেখে অনেকেই মজা করে বলছেন, পরিস্থিতি যেন যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির মতো। তবে প্রশাসনের মতে, সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গুরুতর অসুস্থতা পার করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন সুদীপ! হঠাৎ কেন অনিন্দিতা বললেন, ‘জীবনের খারাপ মুহূর্তগুলো, ভালোতে চাপিয়ে দেওয়া যায়’? কোন নতুন সংগ্রামের কথা জানালেন অভিনেত্রী?
গত এপ্রিল মাসে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা, আর তাই এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ যোগী আদিত্যনাথ এর প্রশাসন। তবে শ্রমিক দিবসে শ্রমিকদেরই জমায়েত বন্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।





