৫৫ দিন কেটে যাওয়ার পর পুলিশের হাতে অবশেষে গ্রেফতার সন্দেশখালির ‘বাঘ’ শেখ শাহজাহান। পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল, বুধবার রাতে সন্দেশখালির মিনাখাঁর বামনপুকুর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে শাহজাহানকে। বসিরহাট আদালতে তোলা হবে তাঁকে। পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে খবর।
গত প্রায় ২ মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে নামটা বারবার উঠে এসেছে, তা হল শেখ শাহজাহান। গত ৫ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে তল্লাশিতে যায় ইডি। রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে নাম জোড়ায় তাঁর। সেই সময় শাহজাহানের অনুগামীরা হামলা চালায় ইডির উপর। সেই থেকেই পলাতক ছিলেন শাহজাহান।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবী করেছিলেন, শাহজাহান হয়ত বাংলাদেশ পালিয়ে গিয়েছেন। এরপর গেরুয়া শিবিরের তরফে দাবী করা হয়, পুলিশের নিরাপদ আশ্রয়েই রয়েছেন শাহজাহান। প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দার দাবী করেছিলেন সন্দেশখালিতেই এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শাহজাহান। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে। জমি, বাড়ি দখল থেকে নারী নির্যাতন সব অভিযোগই ছিল শাহজাহানের বিরুদ্ধে। সন্দেশখালির মহিলারা বিক্ষোভ দেখান শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে। উত্তম ও শিবুকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন অধরাই ছিলেন শাহজাহান।
এরই মাঝে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেছিলেন, আদালতের কারনেই নাকি গ্রেফতার করা যাচ্ছে না শাহজাহানকে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে কোনও বাধা নেই।
এরপরই তৃণমূলের তরফে দাবী করা হয়েছিল সাতদিনের মধ্যে গ্রেফতার হবে শাহজাহান। রাজ্যপালও ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন রাজ্যকে। শাহজাহানকে গ্রেফতার না করতে পারলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্টের দাবী করেছিলেন তিনি। অবশেষে পুলিশের জালে সন্দেশখালির ‘বাঘ’।





