সুদীপ্ত সেনকে গ্রেফতার করতে ২ দিন লেগেছিল, শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে এতদিন সময় লাগল কেন? প্রশ্নের মুখে রাজ্য পুলিশ

অবশেষে দীর্ঘ টালবাহানার পর গ্রেফতার হয়েছেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান। অন্য কোনও দেশ তো নয়ই, বরং অন্য কোনও রাজ্যও নয়। সন্দেশখালি থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে শাহজাহানকে। তাও কেন গ্রেফতারিতে ৫৫ দিন সময় লেগে গেল, এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে রাজ্য পুলিশ। সুদীপ্ত সেনকে তো ২ দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা গিয়েছিল।

২০১৩ সালের ১৮ এপ্রিল সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এর ঠিক দু’দিনের মধ্যেই ২০ এপ্রিল কাশ্মীরের গুলমার্গের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় সুদীপ্ত সেনকে। কিন্তু শাহজাহান তো কোনও কোথাও পালায় নি। সন্দেশখালিতেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন তিনি। সন্দেশখালি কী এতই বড় জায়গা যে গ্রেফতারিতে ৫৫ দিন সময় লেগে গেল? উঠছে প্রশ্ন।

কী জানাচ্ছেন পুলিশ কর্তা?

শাহজাহানকে গ্রেফতার করার পর আজ, বৃহস্পতিবার সকালে সন্দেশখালির মিনাখাঁয় সাংবাদিক বৈঠক করেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার। তাঁর কথায় আইনি জটিলতার কারণেই এতদিন গ্রেফতার করা যায়নি শাহজাহানকে। এডিজির কথায়, ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা ছাড়াও ফেব্রুয়ারিতে শাহজাহানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগ ২-৩ বছরের পুরনো।  

এডিজি দক্ষিণবঙ্গ বলেন, “পুরনো অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্যপ্রমাণ জোগার করতে ও তদন্ত করতে কিছুটা সময় লাগে। যে মামলায় আমরা পদক্ষেপ করতে পারতাম, তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে পারতাম সেই মামলায় আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, তাই গ্রেফতার করা যায়নি”।

শাহজাহানের গ্রেফতারির দেরি নিয়ে আঙুল উঠেছিল রাজ্য পুলিশের উপর। গুঞ্জন উঠে, পুলিশই শাহজাহানকে আড়াল করছে। এই দাবী উড়িয়ে এদিন এডিজি বলেন, “সংবাদ মাধ্যমে লাগাতার বলা হয়েছে পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে শাহজাহানকে গ্রেফতার করছে না। আমি স্পষ্টত বলতে চাই এটা ভুল, অপপ্রচার। আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। দিন দুয়েক আগে যখন আদালত বলে গ্রেফতারির উপর কোনও বিধি নিষেধ নেই, তারপর জোর কদমে আমরা তল্লাশি চালাই”।

শাহজাহানের গ্রেফতারি নিয়ে এদিন ইডির দিকেও আঙুল তোলেন সুপ্রতিম সরকার। তাঁর কথায়, “রাজ্য পুলিশের উপর আইনি বাধ্য-বাধ্যকতা ছিল ঠিকই। ইডির উপর ছিল না। তারপরও তাঁরা কেন শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে উদ্যোগী হননি? সেই প্রশ্নও প্রাসঙ্গিক”।

শাহজাহানের গ্রেফতারির পর বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ জানান, “একটা ছিঁচকে মস্তানকে ধরতেই ৫৭ দিন সময় লাগল পুলিশের। তাহলে রাঘব বোয়ালদের তো পুলিশ কোনওদিন ধরবে না। তৃণমূলের নেতারা বলেছেন এক সপ্তাহ। পার্টির নেতারা ঠিক করে দিচ্ছেন কাকে কখন ধরতে হবে। সন্দেশখালির মানুষ নিরন্তর লড়াই করেছেন। সাধারণ মানুষের দাবী অবশেষে পুলিশ মেনেছে”।

আরও অন্যান্য খবর