বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজধানীর অন্দরমহলে চাপা গুঞ্জন। নতুন দায়িত্ব, নতুন সমীকরণ, আর তার মাঝেই একাধিক সাংবিধানিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল স্থিতিশীলতার, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতেই নীরবতা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, অন্তর্বর্তীকালীন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা ছড়ালেও তাঁকে অনেক বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, গত এক বছরে দেশের শান্তি ও সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে একাধিক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি নানা বাধার মুখে পড়েন বলেও দাবি করেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর বা অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্ত—কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি। এমনকি ১৪-১৫টি বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, একবারও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জানানো হয়নি। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁকে কার্যত “প্রাসাদে বন্দি” করে রাখার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। কসোভো ও কাতার সফরের প্রসঙ্গেও বাধার ইঙ্গিত দেন তিনি।
সবচেয়ে বিস্ফোরক দাবি আসে অপসারণ প্রসঙ্গে। মুহাম্মদ ইউনুস-এর আমলে তাঁকে অসাংবিধানিক উপায়ে সরানোর ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর দাবি, এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে বসানোর চেষ্টাও হয়। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রক্ত ঝরলেও সাংবিধানিক পথ ছাড়া সরবেন না। তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কারণেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে দাবি।
আরও পড়ুনঃ Raj Chakraborty : ‘সিপিএম আমলে ইংরেজি তুলে নেওয়ার মাশুল আজও দিচ্ছে এক প্রজন্ম’— নিজের অভিজ্ঞতা টেনে বিস্ফোরক দাবি রাজ চক্রবর্তীর!
এই কঠিন সময়ে কারা পাশে ছিলেন, সেই প্রশ্নে তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাঁকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে কোনো অসাংবিধানিক পথে অপসারণ মেনে নেওয়া হবে না। রাষ্ট্রপতির দাবি, দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা অটুট রাখতে তিনি শেষ পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। পালাবদলের পর তাঁর এই মন্তব্য যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।






