Mamata Banerjee : একদিকে কেরলের নাম বদলে দ্রুত অনুমোদন, অন্যদিকে বছরের পর বছর অপেক্ষায় বাংলা—মোদী সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজ্যের নাম বদল—শুনতে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে ভাষা, পরিচয় আর রাজনীতির সূক্ষ্ম সমীকরণ। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত ঘিরে আবারও চড়েছে কেন্দ্র–রাজ্য তরজা। এক রাজ্যের প্রস্তাবে দ্রুত সায়, আর অন্য রাজ্যের দাবি বছরের পর বছর অপেক্ষায়—এই বৈপরীত্য নিয়েই এখন তুমুল আলোচনা রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, একই দেশের দুই রাজ্যের ক্ষেত্রে আলাদা মাপকাঠি কেন?

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরালা-র নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। ২০২৪ সালের ২৪ জুন রাজ্যের বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। কেন্দ্রের তরফে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক তাৎপর্যও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই ঘোষণার পরই ক্ষোভ উগরে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্য বিধানসভায় একাধিকবার ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব পাস করেও দিল্লির অনুমোদন মেলেনি। নামের ইংরেজি বানানে ‘W’ থাকায় সর্বভারতীয় তালিকায় পিছিয়ে পড়তে হয়—এমন যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভোটের সময় রাজ্যকে ‘বাংলা’ বলায় আপত্তি না থাকলে, সরকারি স্বীকৃতিতে বাধা কোথায়? তাঁর অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং রাজনৈতিক বঞ্চনা।

কেরলের বাম সরকারের প্রস্তাবে দ্রুত সায় দেওয়াকে ঘিরে আরও বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ইঙ্গিত, এখানে বিজেপি ও বামেদের মধ্যে কোনও অঘোষিত সমঝোতা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। যদিও বিরোধী শিবির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রতিটি রাজ্যের প্রস্তাব আলাদা প্রেক্ষাপটে বিবেচিত হয়। তবু এই ইস্যুতে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত যে নতুন মাত্রা পেল, তা বলাই যায়।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh: “অসাংবিধানিক চক্রান্তে অপসারণের চেষ্টা!”— বিস্ফো*রক দাবি রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের, বাংলাদেশে পালাবদলের পর তীব্র বিতর্ক!

নামের প্রশ্নে আবেগ জড়িয়ে থাকে মানুষের আত্মপরিচয়। তাই ‘কেরলম’ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত যতটা প্রশাসনিক, ততটাই প্রতীকী। আর সেই প্রতীক নিয়েই এখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বাংলার প্রস্তাব ভবিষ্যতে কী পরিণতি পায়, সেটাই এখন দেখার। তবে স্পষ্ট—এই বিতর্ক কেবল নাম বদলের নয়; এটি ক্ষমতার সমীকরণ, আঞ্চলিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক বার্তার লড়াইও বটে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles