অন্তবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় অনুপস্থিত আওয়ামি লিগের নেতারা! কিন্তু দেখা মিলল নিষিদ্ধ দল জামাতের! বড় কোনও ষড়যন্ত্র চলছে না তো বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ডাকে সরকার পতনের পয়লা দাবীতে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Haseena)। ৪৫ মিনিটের মধ্যে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেন বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। উত্তপ্ত গোটা বাংলাদেশ (Bangladesh)। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেনাপ্রধান।

বৈঠক শেষে সেনাপ্রধানওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিহত ছাত্র-জনতার প্রতিবাদে গোটা দেশ যখন উত্তাল, তখনই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকার।

পয়লা আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়। ঘটনার দিন চারেক যেতে না যেতেই জামায়াত আমির জায়গা করে নিলেন অন্তবর্তী সরকার গঠনে নিয়ে সেনাপ্রধানের বৈঠকে!

বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছেন সেনাপ্রধান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেনাপ্রধান বলেন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফিস নজরুল ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিও।

তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিল না আওয়ামি লিগের কোনও সদস্য। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যখন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্টি আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে কোনও সদস্য উপস্থিত ছিলেন না, তবে কি করে এই বৈঠককে সর্বদলীয় বলা যেতে পারে? অন্তবর্তী সরকার গঠনের আগে কি করে একটি নিষিদ্ধ দলকে নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেন সেনাপ্রধান? এই নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চর্চা।

এর আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামাত। বিএনপি-জামাত-ছাত্রদল-শিবির জঙ্গি। তারা বাংলাদেশের উন্নয়নকে ধ্বংস করতে আমাদের উপর থাবা দিয়েছে। দেশে যে কাণ্ডগুলো ঘটছে, তা আসলে রাজনৈতিক কিছু নয়। এসব সম্পূর্ণ জঙ্গিবাদী কাজ। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে ধ্বংস করা”। আর সেই নিষিদ্ধ হওয়া দল জামাতকে আজ অন্তবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা সভায় দেখে বেশ সন্দিহান অনেকেই। বারবার ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন উঠছে যে এই ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে কী তাহলে হাসিনা সরকারের পতনই চাওয়া হচ্ছিল আড়ালে? সবটাই কী চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যই? এর মধ্যে কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কী না, সে সন্দেহও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

আরও অন্যান্য খবর