বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর গো’মাং*স মন্তব্য ঘিরে এখন উত্তাল সামাজিক মাধ্যম। বাংলাদেশে গিয়ে গোমাংস খাওয়ার কথা বলায় প্রবীণ অভিনেতাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিত’র্ক। এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের খাবারের প্রসঙ্গে ইলিশের পাশাপাশি গরুর মাংস পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরেই নেটমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় নানা কটাক্ষ এবং ট্রোলিং। বিশ্বজিৎ অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেছেন, তিনি কী খাবেন, তা অন্য কেউ ঠিক করে দেওয়ার অধিকার রাখে না। তাঁর কথায়, “আমার পেট, আমার মন, আমার হাত, আবার যে খাবার খাব তার জন্য যে টাকা খরচ হবে, সেটাও তো আমারই!” এই পরিস্থিতিতেই ফের নেটদুনিয়ার চর্চায় উঠে এসেছে প্রায় পাঁচ বছর আগের দেবলীনা দত্তের গো’মাং*স সংক্রান্ত মন্তব্য।
২০২১ সালে গায়ক এবং পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে দেবলীনা দত্তও গোমাংস নিয়ে নিজের মত জানিয়েছিলেন। অনিন্দ্য বলেছিলেন, অষ্টমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার পর নবমীর দিন বিফ খাওয়ার কথা। সেই বক্তব্যকে সমর্থন করে দেবলীনা জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে নিরামিষভোজী হলেও মাংস রান্না করতে পারেন। প্রয়োজনে অনিন্দ্যকে তাঁর জন্য ডেকে রান্না করানোর কথাও বলেছিলেন অভিনেত্রী। মূলত এই মন্তব্যকে ঘিরেই তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিতর্ক এতটাই বাড়ে যে দেবলীনার বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের পাশাপাশি খু’ন এবং ধ*র্ষণের হু’মকিও আসার অভিযোগ ওঠে। তাঁর প্রাক্তন স্বামী তথাগত মুখোপাধ্যায় সেই সময় বেশ কিছু মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছিলেন এবং দেবলীনা পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথাও বলেছিলেন।
সেই পুরনো বিতর্কের রেশ অবশ্য পরবর্তী সময়েও পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৫ সালে আরএসএসের সাংস্কৃতিক শাখা সংস্কার ভারতীর একটি অনুষ্ঠানে দেবলীনাকে মঞ্চে সম্মান জানানো নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ, ২০২১ সালের সেই গো’মাং*স সংক্রান্ত মন্তব্য তখনও অনেকের মনে ছিল। দেবলীনা সে সময় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নিজের অবস্থান বদলানোর কোনও প্রয়োজন তিনি মনে করেন না। তিনি আরও বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষাশী এবং মাছ-মাংস কোনওটাই খান না। তাঁর যুক্তি ছিল, তাঁর মন্তব্যের অর্থ ছিল কারও খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ না করা। এমনকি তিনি নিজের গোসেবার কথাও উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যাঁরা তাঁর পুরনো মন্তব্যের সমালোচনা করছেন, তাঁরা নিজেরা কতটা নিরামিষাশী।
এর মধ্যেই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে দেবলীনার একটি ভিডিও। সেখানে অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, পুজোর সময় শিল্পীদের কাছে উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আসে, যাকে অনেকেই ‘সিজন’ বলে থাকেন। এই সময়ে পুজোর বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং খুঁটিপুজোর উদ্বোধনে শিল্পীদের ডাকা হয়, ফলে অনেকেরই ভালো উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়। দেবলীনার দাবি, তাঁকেও বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাকা হলেও শেষ মুহূর্তে অনেক অনুষ্ঠান থেকেই বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পিছনে তাঁর ২০২১ সালের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেউ কারণ হিসেবে দেখছেন কি না, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, বরং ২০২১ সালের ওই বিতর্কের পরের সময়কার। অর্থাৎ ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে স্পষ্টতা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘এগুলো ও না করলেও পারে’, স্বস্তিকার সঞ্চালনা নিয়ে কি হয়েছে এ কী বললেন জোজো?
ওই ভিডিওতে দেবলীনা আরও জানিয়েছেন, অভিনয় কোনও বাঁধাধরা চাকরি নয় এবং বহু শিল্পী পুজোর এই মরসুমের কাজের উপর নির্ভর করে থাকেন। তাই কাজ পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে সেটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া একজন শিল্পীর জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেও আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে ঘিরে বর্তমান গো’মাং*স বিতর্কের মধ্যে সেই পুরনো ভিডিও ফের সামনে আসতেই দেবলীনার ২০২১ সালের মন্তব্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বিশ্বজিতের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নেটমাধ্যমে তর্ক চলছে, অন্যদিকে দেবলীনার ক্ষেত্রে পুরনো মন্তব্যের সঙ্গে তাঁর কাজ হারানোর দাবিকে জুড়ে দেখছেন অনেকে। তবে ভাইরাল ভিডিওটি পুরনো না সাম্প্রতিক, সেই বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের দাবির বাইরে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ২০২১ সালের সেই বিতর্কের পর সত্যিই কি কাজ হারানোর প্রভাব পড়েছিল দেবলীনার কেরিয়ারে, নাকি পুরনো ভিডিও ঘিরেই ফের তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা?






