অভাবকে সঙ্গী করেই বিদেশে পাড়ি! ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক পাশ ধণশ্রীর, গরীব সিকিউরিটি গার্ডের মেয়ের সাফল্যকে কুর্নিশ নেটিজেনদের

বাবা সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। তারই মেয়ে ব্রিটেন থেকে স্নাতক পাস করে চমকে দিলেন সকলকে। তাকে শুভেচ্ছা জানালেন আয়ুষ্মান খুরানা, ইশা গুপ্তা থেকে শুরু করে বোট স্পিকার কোম্পানির মালিক আমান গুপ্তাকে। “তুমি তো সামান্য সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করো, তোমার ক্ষমতা নেই মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানোর ” এই কথায় শুনতে হয়েছিল ধনশ্রীর বাবাকে। কারণটা আর কিছুই না, গরিব সিকিউরিটি গার্ড হওয়ার জন্যই এই কথাগুলো শুনতে হয়েছিল। সেই সিকিউরিটি গার্ডের মেয়ে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি থেকে এমএস করে দেশে ফিরলেন। লিখলেন বাবার জন্য থ্যাঙ্ক ইউ নোট।

ধনশ্রীর বাবা দেখিয়ে দিয়েছে একজন বাবা তার মেয়ের জন্য কি করতে পারে। বাবার থেকে বড়ো সুপার হিরো আর কেউ হয় না। বাবা গরিব হোক বা বড়লোক প্রতিটি মেয়ে তার বাবার কাছে রাজকন্যা। রাজকন্যাকে ভালো রাখতে সবকিছু করতে পারে তার বাবা। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক বাবা তার মেয়েকে ব্রিটেনের এক ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি করে বিদেশে পাঠাচ্ছেন। তারপরেই আসছে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক অনুষ্ঠানের একটি ক্লিপ। সেখানে গ্রাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পড়া উচ্ছসিত মেয়ে। আর তার পরের ক্ষেপেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে মেয়ে কাঁদছেন। সাথে সাথে বাবার চোখেও জল আসে।

মেয়ে ধনশ্রী এই ভিডিওটি পোস্ট করে লিখেছেন “আমায় বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ বাবা”। তিনি আরও লেখেন, “বাবাকে যারা বলেছিলেন আপনি তো সামান্য গার্ড আপনি মেয়েকে বিদেশে পাঠাতে পারবেন না এটা তাদের জন্য। বাবা আমার জীবনে লাইফ গার্ড। আমার বাবা সেটা করে দেখিয়েছে।”

ইতিমধ্যেই ভাইরাল এই ভিডিওটি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন ধনশ্রী তবে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই বাবার পাশে দাঁড়াতে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন ধনশ্রী। ধনশ্রী স্বপ্ন দেখতেন তিনি বিদেশের মাটিতে পড়তে যাবেন। ভালো ডিগ্রি নিয়ে দেশে যাবেন ভালো চাকরি করবেন।

মেয়ের এই স্বপ্নের কথা বাবা জানতেন তাই দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করে গেছেন তিনি। এরপর ব্রিটেনে পড়াশোনার জন্য ধনশ্রী একটি লোন এপ্লাই করেন তা এপ্রুভ হয়ে গেলেই ধনশ্রী পাড়ি দেন ব্রিটেনে।‌ সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের হাত খরচা চালানোর জন্য পার্টটাইম কাজ করতেন ধনশ্রী। বর্তমানে ধনশ্রী ডেটা সাইন্স এন্ড বিজনেস এনালিটিক্স-এ স্নাতকে এমএস ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরেছেন। শুধু তাই নয় মহারাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে তথ্য প্রযুক্তিতেও স্নাতক ধনশ্রী। একদিন যারা সিকিউরিটি কার্ডের মেয়ে বলে ধনশ্রীকে তাচ্ছিল্য করত এখন তারাই বিদেশে পড়তে যাওয়া টিপস চাইছেন ধনশ্রীর থেকে। ধনশ্রী তার বাবাকে করা অপমানের জবাব এভাবেই দিয়েছেন। যা দেখে গোটা দেশ স্যালুট জানাচ্ছে তাকে।

আরও অন্যান্য খবর