দু’দিন আগেই তিনি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে পা দেন তিনি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি ধর্মে বিশ্বাস করেন, সেই কারণে সিপিএমে যোগ দেন নি। এবার সিপিএমকে নিয়ে আরও এক বিস্ফোরক দাবী করলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতির যাত্রা শুরু করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গত রবিবার তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি পদত্যাগ করছেন। গত মঙ্গলবার বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক অভিজিৎ জানিয়ে দেন, তিনি বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন। এরপর ৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে হাত ধরেন গেরুয়া শিবিরের। ওই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি ধর্মে বিশ্বাস করেন তাই সিপিএমে যোগ দেন নি। আর কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর মতাদর্শ মেলে না। সেই কারণেই শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়তে বিজেপিকেই বেছেছেন তিনি। এবার এক বিস্ফোরক দাবী করে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, সিপিএমের তরফে তাঁকে কাস্তে হাতুড়ির প্রতীকে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ঠিক কী জানালেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ““সিপিআইএমের কাছ থেকেও কিন্তু আমার কাছে প্রস্তাব ছিল যাদবপুর কেন্দ্র থেকে দাঁড়ানোর। আমি ২-৪ দিন সময় নিয়েছিলাম। নিয়ে বলে দিয়েছিলাম, না আমি পারছি না। তাতে ওঁরা হয়তো দুঃখ পেয়েছেন। অনেকেই চেয়েছিলেন আমি আসি”।
ধর্মে বিশ্বাসী বলেই কী কেবল সিপিএমে যোগ দিলেন না তিনি?
প্রাক্তন বিচারপতির স্পষ্ট জানান, “সিপিএম শৃঙ্খলা বলে পার্টির অন্দরে যেটা চালায়, এত একটা জটিল ব্যাপার… আর এই পার্টি শৃঙ্খলার ফাঁদে পড়ে কত মানুষের যে বারোটা বেজেছে, ভাল মানুষের, যাঁরা আবেগ নিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে রাজনীতিটা করতে গিয়েছিলেন। ওই একটা পার্টির শৃঙ্খলার নামে চাপিয়ে দেওয়া, এটা করা যাবে, ওটা করা যাবে না, সেটা কোনও ক্রিয়েটিভ লোক মেনে নিতে পারেন না”।
কী প্রতিক্রিয়া সিপিএমের?
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “ওঁকে দাঁড়াবার জন্য বামেদের তরফ থেকে কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিনা, সেটা আমার জানা নেই। তিনি বিবেচনা করেছেন, প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওঁ ঠিকই করেছেন। ওঁ শৃঙ্খলা পরায়ণ হতে পারবেন না, যৌথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, সে জন্যই মার্কসবাদী পার্টির কঠোর শৃঙ্খলা মানতে পারবেন না। এই শৃঙ্খলা কঠিন, সেটা ব্যক্তিসিদ্ধান্ত হতেই পারে”।
বলে রাখি, একদা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল যাদবপুর। টানা ১৯৬০ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত এই কেন্দ্র বামেদের দখলেই ছিল। ১৯৮৪ সালে ওই কেন্দ্র থেকে হেভিওয়েট সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে সাংসদ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে ওই কেন্দ্র থেকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে হারিয়ে সাংসদ হন মিমি চক্রবর্তী।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার