অন্যের অধীনে চাকরি করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠেন অনেকেই। মনে করেন নিজের থেকে যদি কোনও কাজ করা যায়। স্বাধীনভাবে বাঁচতে কে না চান না! তবে বললেই তো আর সবকিছু হয়ে যায় না। এর জন্য দরকার সাহস সর্বোপরি পরিশ্রম ও ধৈর্য।
তবে দিব্যা রাওয়াত প্রমাণ করেছেন যে মানুষ মন থেকে চাইলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা দিব্যা। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক কাজে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। এরপর একটি এনজিওতে মানবাধিকার বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন দিব্যা। দিব্যা তখন মানুষের কষ্ট দেখে ঠিকই করে নিয়েছিলেন যে তাদের জন্য কিছু করবেন। ২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ডে বন্যায় যখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়, সেই সময় চাকরির প্রতি তিতিবিরক্ত হয়ে চাকরি ছাড়েন তিনি।
এরপরই তাঁর মাথায় আসে মাশরুম চাষের কথা। এতে পরিশ্রম ও খরচ কম তবে লাভ বেশি। মাশরুম চাষ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন দিব্যা। নানান পরীক্ষানিরীক্ষা করে শুরু করে দেন মাশরুম চাষ। সেই দিব্যাকেই এখন গোটা উত্তরাখণ্ডের মানুষ ‘মাশরুম গার্ল’ হিসেবে চেনেন। তাঁর কোম্পানি সৌম্য ফুড প্রাইভেট লিমিটেড মাশরুম চাষের জন্য তিন লক্ষ টাকা ব্যয় করেন।
২০১৬ সালে তিনি নিজস্ব গবেষণা ল্যাব খোলেন। দিব্যা জানান যে তিনি বোতাম, অয়েস্টার, মিল্কি মাশরুমের পাশাপাশি কার্ডিশেফ মিলিটারি মাশরুম চাষ করেন যার দাম বাজারে প্রতি কেজি ৩ লাখ টাকা। দিব্যা জানান, তাঁর কোম্পানি প্রথমে ৪ হাজার কেজি মাশরুম বিক্রি করত এবং গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১.২ লাখে। আজ, ৩০ বছর বয়সী দিব্যা রাওয়াতের বার্ষিক আয় ৫ কোটি টাকারও বেশি।
মাশরুম চাষ ছাড়াও তাঁর কোম্পানি মাশরুমের নানান পণ্য বিক্রি করেন। মাশরুমের জুস, বিস্কুট, নুডলসের মতো ৭০টি পণ্যের ব্যবসা করে দিব্যার কোম্পানি। উত্তরাখণ্ড সরকার দিব্যাকে মাশরুমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার ঘোষণা করেছে। স্থানীয় কর্মসংস্থান ও মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য দিব্যা ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দ্বারা নারীশক্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কৃষক দিব্যার সঙ্গে যুক্ত।
বাজারে মাশরুমের চাহিদা তুঙ্গে। এই কারণে দিব্যা ‘দ্য মাউন্টেন মাশরুম’ নামের একটি উদ্যোগ শুরু করার কথা পরিকল্পনা করেছেন। এর জেরে তিনি খুচরো ও হোটেলগুলিতে মাশরুম সরবরাহ করবেন তিনি। এছাড়াও গোয়া ও পুনেতেও অফিস খোলার কথা ভাবছেন দিব্যা। আগামীদিনে দু’হাজার কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। এর জেরে তাঁর কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার হবে ২০ কোটি টাকা।





