দার্জিলিং মানেই বাঙালির নস্টালজিয়ার মধুর আস্তানা। পাহাড়ের কোলে বসে কফির কাপ হাতে যেটুকু নিরিবিলি জমানো যায়, তার সঙ্গে যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকে ‘গ্লেনারিজ’। বড়দিনের আলোয় মোড়া মৌসুমে যখন পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায় পাহাড়জুড়ে, তখনই হঠাৎ শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এক অস্বস্তির খবর—দরজা বন্ধ গ্লেনারিজের। কিন্তু ঠিক কী ঘটল? কেন হঠাৎ তালা পড়ল এই ঐতিহ্যবাহী বারে—সেটাই এখন দার্জিলিং থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
প্রথমে বিষয়টি অনেকেই রটনা ভেবেছিলেন। কারণ বড়দিনের আগের সপ্তাহে এমন জনপ্রিয় স্পট বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। পরে জানা যায়, এই বন্ধ হওয়া কোনও সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সরকারিভাবে জারি হওয়া নির্দেশ। দ্বিতীয় প্যারার শেষে এসে একটাই প্রশ্ন—ঠিক কী এমন অভিযোগ উঠল যে এত বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটিকে এক নির্দেশে বন্ধ রাখতে হল?
আবগারি দফতরের তরফে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে গ্লেনারিজ বারের বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে, নিয়ম না মেনে বিভিন্ন আয়োজন, বিশেষ করে মিউজিক সেশন চলত এখানে, যার জন্য নির্ধারিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। আইনের এই লঙ্ঘনের কারণেই ৯০ দিনের জন্য বারের কার্যকলাপ স্থগিত রাখা হয়েছে। তিন মাস মানে সম্পূর্ণ উৎসব-শোভাযাত্রার সময়টুকু—পর্যটন মরশুমের খানিকটা সোনালী সময়—এর সবটাই হাতছাড়া হয়ে যাবে।
গ্লেনারিজের মালিক অজয় এডওয়ার্ড দাবি তুলেছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার। তাঁর বক্তব্য—নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ শুধু অজুহাত, আসল কারণ অন্যত্র। হালে দার্জিলিংয়ের টুংসুং চা বাগানের সেতু উদ্বোধন করে তিনি নাম দেন ‘গোর্খাল্যান্ড’। এই নামকরণ ঘিরে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। কেউ বলেন এটি গোর্খাল্যান্ডের দাবি আরও জোরদার করার রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন বার্তা, আবার প্রশাসনিক মহল থেকে এই নামকরণকে কটাক্ষ করতেও দেখা গেছে। এই চাপানউতোরের মধ্যেই হঠাৎ গ্লেনারিজে তালা পড়াতে অনেকেই যোগসূত্র খুঁজছেন।
আরও পড়ুনঃ Geeta path: “মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুবিরোধী বলেই যাননি”— গীতা পাঠ ইস্যুতে শুভেন্দুর বিস্ফো*রক অভিযোগ!
সবশেষে দার্জিলিং প্রেমীদের মনে একটাই আক্ষেপ—পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে গ্লেনারিজে এক কাপ কফি বা বেকারি আইটেম ছাড়া ট্যুর যেন অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। বড়দিনের আগে, নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মুহূর্তে এমন একটি জায়গায় তালা পড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। আইনি জটিলতার জবাব শেষ পর্যন্ত আদালতেই মিলবে, কিন্তু আপাতত দার্জিলিংবাসী ও পর্যটক—দু’জনেরই মন খারাপ একই কারণে—পাহাড়ের হৃদয় থেকে যেন আচমকা এক আলো নিভে গেছে।





