West Bengal government : ১০০ দিনের কাজে বাংলার বরাদ্দ শূন্য! ‘রাজ্য কেন্দ্রের নির্দেশ মানেনি’— সংসদে কেন্দ্রের লিখিত বক্তব্যে স্পষ্ট উঠে এল কেন আটকে রয়েছে সম্পূর্ণ অর্থ!

দেশজুড়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের মাঝে আবারও সামনে এল ১০০ দিনের কাজ নিয়ে পুরনো সেই অভিযোগ– বাংলার প্রাপ্য অর্থ কেন আটকে আছে? কয়েক বছর ধরে এই প্রশ্নটিই ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে রাজনীতির অন্দরে-বাইরে। কেন্দ্র কি আদৌ টাকা আটকে রেখেছে, নাকি কোনও নির্দেশিকা না মানার কারণেই সমস্যা? এই বিতর্ক নিয়েই ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় অধিবেশনে ফের প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার বকেয়া নিয়ে। এমজিএনআরইজিএ স্কিমে বিভিন্ন রাজ্যের কাছে কত টাকা বিলি হয়েছে, আর ঠিক কোন রাজ্যের কত পরিমাণ বকেয়া রয়ে গেছে— সেই বিস্তারিত তালিকা জমা দিতে বলেন তিনি। এরপরই কেন্দ্রের লিখিত জবাবে বেরিয়ে আসে সেই তথ্য, যা মুহূর্তে আলোড়ন ফেলে রাজনৈতিক মহলে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশের প্রায় সব রাজ্যেরই প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে শূন্য— একটিও টাকা দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্র জানিয়েছে ২০২২ সাল পর থেকেও রাজ্যের জন্য কোনও বরাদ্দ ছাড়া হয়নি। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী কমলেশ পায়োয়ান তাঁর লিখিত উত্তরে উল্লেখ করেন, কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যালোচনার ধাপ নাকি পূরণ করেনি রাজ্য সরকার। সেই কারণেই অর্থ ছাড় হয়নি— এমনটাই দাবি তাঁর।

এই অবস্থানকে ঘিরেই নতুন করে উত্থান হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরের। রাজ্যের দাবি, একাধিক কমিটি ও পর্যালোচনার নাম করে কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবেই অর্থ আটকে রেখেছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে এই ইস্যু কোনও নতুন নয়। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগেও একই অভিযোগ তুলে দিল্লিতে ধরনায় বসেছিলেন অভিষেক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রশ্নোত্তরের পর থেকেই পরিষ্কার যে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটেও এই বিষয়টি বড় ইস্যু হিসেবে সামনে আনা হবে।

আরও পড়ুনঃ Darjeeling Glenarys Closed : পর্যটনের মরশুমে ধাক্কা! ‘নিয়ম ভাঙা’ না রাজনৈতিক প্রতিশোধ? দার্জিলিংয়ের গ্লেনারিজ বন্ধে নতুন বিতর্ক!

তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্যও তীব্র। রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, “হাইকোর্টে কেন্দ্র হেরেছে, সুপ্রিম কোর্টেও হার। নির্দেশ রয়েছে— বকেয়া মেটাতেই হবে।” গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বাংলার সমস্ত বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে কেন্দ্রকে। অপরদিকে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পাল্টা অভিযোগে বলেন, “বরাদ্দ শূন্য কারণ বাংলা চুরি করেছে।” দুই পক্ষের পালটা-তর্কে ১০০ দিনের কাজ আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, আর প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকরাই— যারা আজও অপেক্ষা করছেন তাঁদের ন্যায্য মজুরির।

RELATED Articles