সম্প্রতি সাইবার অপরাধীরা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে এক নতুন ফাঁদ তৈরি করেছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এই কৌশলে অপরাধীরা ফোনের মাধ্যমে তাদের শিকারকে ভয় দেখিয়ে এবং ভুয়া পুলিশি পরিচয়ে টাকা আদায় করছে। এক্ষেত্রে তারা গ্রেফতারি বা জামিন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি করে এবং শিকারকে ‘ডিজিটালি গ্রেফতার’ করার কথা বলে। বাস্তবে, আইন অনুযায়ী গ্রেফতারি কখনও ডিজিটালি হতে পারে না, কিন্তু প্রতারকরা এই ভুয়া কৌশল ব্যবহার করে মানুষের ভীতি সৃষ্টি করছে।
ডিজিটাল গ্রেফতারির ক্ষেত্রে প্রতারকরা প্রথমে ফোন করে পুলিশ বা আইনজীবী পরিচয়ে নিজেদের পরিচয় দেয়। এরপর তারা দাবি করে যে শিকারকে ‘ডিজিটালি গ্রেফতার’ করা হয়েছে এবং জামিন পেতে কিছু অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তারা হুমকি দিয়ে বলছে, “যদি টাকা না দেন, তাহলে পুলিশ আপনার বাড়িতে এসে আপনাকে গ্রেফতার করবে।” এসব কথা বলে তারা শিকারকে ভয় দেখিয়ে অনলাইনে টাকা আদায় করে থাকে।
প্রতারকরা এই ফাঁদে ভরসা জোগাতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তারা ফোনের স্ক্রিনে পুলিশের নাম বা থানার পরিবেশ দেখিয়ে শিকারকে বিভ্রান্ত করে। এতে শিকার মনে করে যে, তারা সত্যিই পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এই সময়ে, প্রতারকরা তাদের শিকারকে ভুয়া ভিডিও কলের মাধ্যমে ‘আইনজীবী’ পরিচয়ে যোগাযোগ করে এবং জামিনের জন্য টাকা চায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে কোনো আইনি প্রক্রিয়া নেই। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে হলে পুলিশকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এটি ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অপরিচিত নম্বর বা লিঙ্ক থেকে আসা কল বা মেসেজের ওপর বিশ্বাস না করতে এবং এসব বিষয়ে আরও সচেতন থাকতে।
আরও পড়ুনঃ ফের হিন্দু মন্দিরে লুঠ! বাংলাদেশ ইসকনের রাধারমণ দাসের পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য
এই ধরনের সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা বা ফোনে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কখনোই উচিত নয়। এমনকি, সন্দেহ হলে বা এমন ফোন কল পেলে, শিকারকে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানায় জানাতে বলা হয়েছে। সাইবার অপরাধীদের এ ধরনের কৌশল থেকে বাঁচতে, সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা আর কোনো বিপদ ডেকে আনতে না পারে।






