আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Hospital) ঘটা নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গে “রেপ-টেপ সব জায়গাতেই হয়। কিন্তু কলকাতার, বাংলার মতো এত প্রতিবাদ কোথায় হচ্ছে? এটা একটা বিশাল ব্যাপার”, এই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলীর (Sourav Ganguly) স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলী (Dona Ganguly)। এরপরই শুরু হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। বয়ে যায় নিন্দার ঝড়। সমালোচনা করেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষরা। সমাজের একাংশ এও দাবী করে যে এরকম মন্তব্য করে ডোনা গাঙ্গুলী ধ’র্ষণের মত ঘটনাকে সমর্থন করছেন। সমাজ মাধ্যমে তুমুল ভাবে ট্রোল হতে হয় ডোনা গাঙ্গুলিকে।
এরপর ডোনা গাঙ্গুলীকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই ঘটনার ব্যাপারে পোস্ট করতে দেখা যায়। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, একজন মহিলা এবং এক মেয়ের মা। আমি পাগল নই যে ধর্ষণকে সমর্থন করব। বরং আমিও নিজের মতো করে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। শুধু এটাই বলেছি যে নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি খুশি”।
এই ফেসবুকের মাধ্যমেই ডোনা গাঙ্গুলীর একটি খবর সামনে আসে সম্প্রতি। ডোনা গাঙ্গুলী আর নেই! ইরাকের রাজধানী বাগদাদ শহরে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। সেই খবর সবার সামনে আসে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই। শনিবার রাতে এই পোস্ট সামনে আসার পর চমকে ওঠেন অনুরাগীরা।
এরপর একের পর এক পোস্ট হতে থাকে ডোনা গাঙ্গুলীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। একটি পোস্টে লেখা, “পবিত্র আত্মার শান্তি কামনা করি ডোনা”। আবার অন্য একটি পোস্টে লেখা, “শান্তিতে ঘুমাও বোন ডোনা”। আবার অন্য একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, এক দুর্ঘটনায় নাকি প্রাণ হারিয়েছেন নৃত্যশিল্পী। এরপরই অর্ধনগ্ন মহিলাদের ছবি পোস্ট হতে থাকে ডোনা গাঙ্গুলীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে।
আসলে ঘটনাটি ঘটেছে সাইবার অপরাধের ফলে। হ্যাক করা হয়েছিল ডোনা গাঙ্গুলীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। এই প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে হাসতে হাসতে ডোনা গাঙ্গুলী বলেন, “আমার কাছে খবর এসেছে। আমিও দেখেছি। আমাকে একেবারে বাগদাদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে”। তিনি আরও বলেন, “সবাইকে জানিয়েছি, আপাতত আমার সমাজমাধ্যম থেকে কেউ যেন বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া না দেন”। এরপর পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখার সাহায্যে সরিয়ে ফেলা হয় ওই পোস্টগুলি।






