Nepal Gen Z Movement: মহেশ বাসনেতকে ঘিরে ফুঁসছে নেপাল! ফের জেন জি রোষে তপ্ত সেমরা বিমানবন্দর, জারি কার্ফু!

নেপালে ফের উত্তেজনার আঁচ। কয়েক মাস আগেই যে দেশ জেন জি তরুণদের প্রবল আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছিল, ফের সেখানে মাথাচাড়া দিচ্ছে ক্ষোভ। দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক পক্ষপাত— পুরনো সেই অভিযোগগুলিই যেন আবার ঘনীভূত হয়ে উঠছে বাতাসে। স্থানীয় মানুষজন বলছেন, আগের বিক্ষোভ যেমন আচমকা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল, ঠিক তেমনই এবারও পরিস্থিতি যেন ধীরে ধীরে অগ্নিগর্ভ হচ্ছে। তবে প্রশাসন এই বার একেবারেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। তাই শুরু থেকেই নজরদারি এবং সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিতীয়বারের মতো এই নতুন জেন জি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে বারা জেলা। রবিবার সকালে সেমরা বিমানবন্দরের বাইরে আচমকাই বিক্ষোভে জড়ো হতে শুরু করেন তরুণেরা। প্রথমে কয়েকজন দাঁড়ালেও অল্প সময়ের মধ্যেই সংখ্যা বাড়তে থাকে দ্রুত। তাদের অভিযোগের তির সরাসরি ঘুরে যায় UML নেতা মহেশ বাসনেতের দিকে। কারণ, আগের জেন জি আন্দোলনের সময় তিনি নাকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই নয়া ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এর মাঝেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই দিনই বারা জেলায় পৌঁছানোর কথা UML নেতা শঙ্কর পৌদেল এবং মহেশ বাসনেতের। আর এই তথ্য সামনে আসতেই কার্যত রাস্তায় নেমে পড়েন জেন জি-রা। পথে বসে স্লোগান, বিক্ষোভ— মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। সেমরা বিমানবন্দরের বাইরে জটলা বাড়তে থাকায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে প্রশাসন দ্রুত অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে।

সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আসে দুপুরের পর। জেলা প্রশাসক ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র রীতিমতো জরুরি বৈঠক ডেকে সেমরা বিমানবন্দর এবং আশপাশের এলাকায় দুপুর ১২টা ৩০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির গতি দেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না। কার্ফুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ফ্লাইট বাতিল করে দেয়। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা, তবে প্রশাসনের বক্তব্য— নিরাপত্তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

আরও পড়ুনঃBihar politics : দশমবার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ! কিন্তু মন্ত্রক ভাগাভাগি নিয়ে এনডিএ–তে বাড়ছে টানাপোড়েন—স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা দফতর কার হাতে যাবে?

নেপাল আগেই জেন জি আন্দোলনের ভয়াবহতা দেখেছে। দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি অদক্ষতার বিরুদ্ধে তখন রাস্তায় ফেটে পড়েছিলেন হাজার হাজার তরুণ। সেই আন্দোলনের ধাক্কায় দেশ ছাড়তে হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলিকে পর্যন্ত। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই এবার পরিস্থিতি শুরুতেই চেপে ধরার চেষ্টা করছে প্রশাসন। বিক্ষোভ থামানোর জন্য একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা— উত্তেজনা না কমলে কার্ফু আরও বাড়ানো হতে পারে। এখন নজর বারা জেলাতেই— পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি আরও বিস্তৃত হবে বিক্ষোভের পরিধি— তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর