বিহারের রাজনীতিতে আবারও জমে উঠেছে উত্তেজনা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা জল্পনা, আলোচনা, সমীকরণের বদল—সব মিলিয়ে পাটনা ফের হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণ মানুষের চোখেও প্রশ্ন—ক্ষমতার পালাবদলের এই দীর্ঘ যাত্রা কোথায় গিয়ে থামবে? কে সামলাবেন রাজ্যের নতুন প্রশাসন? বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দান ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। যেন বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে রঙিন হতে চলেছে।
এই আবহাওয়ার মধ্যেই সামনে এসেছে সবচেয়ে বড় খবর—বিহারের মসনদে নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছেন নীতীশ কুমার। ২০০৫ সাল থেকে একাধিক বার তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন, আবার কখনও জোট পরিবর্তন করে নতুন অধ্যায়ও খুলেছেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে এনডিএ জোট তাদের প্রচণ্ড জয়ের জেরেই রাজ্যে সরকার গঠনের দাবি জানাবে। সেই দাবিকে এক ধাপ এগিয়ে বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন জেডিইউ নেতা। তবে শপথ মঞ্চে কারা থাকবেন, মন্ত্রিসভায় কাদের জায়গা হবে—তা নিয়ে তখনও রাজনৈতিক অন্দরে জোর জল্পনা চলছিল।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১:৩০টায় গান্ধী ময়দানেই দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার। ৭৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ নেতার হাত ধরে বিহারের প্রশাসনে যুক্ত হল নতুন অধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরা। শপথের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী মঞ্চেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। এই বিশাল আয়োজন কার্যত এনডিএ-র শক্তি প্রদর্শনই করে দিল। গোটা গান্ধী ময়দান জুড়ে ছিল দর্শকের ঢল, চারদিকে নীতীশ-মোদীর বিশাল কাটআউট, ফুলে সাজানো পথ—পুরো পরিবেশ যেন উৎসবের রূপ নিয়েছিল।
মন্ত্রিসভার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ছিল অনেক দিন ধরেই। সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, প্রতি ছ’জন বিধায়কের অনুপাতে একজন মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে জেডিইউ ও বিজেপির মধ্যেই বেশি মন্ত্রক থাকার কথা। অবশেষে শপথমঞ্চে দেখা গেল, মোট ২৬ জন নেতাকে মন্ত্রী হিসাবে শপথ পড়ানো হয়েছে। সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা ফের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। পাশাপাশি মঙ্গল পাণ্ডে, বিজেন্দ্র যাদব, লেশি সিং, নীতিন নবীন, সুনীল কুমারসহ বহু পরিচিত মুখকে দেখা গেল মঞ্চে। কেবল একটি মুসলিম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জামা খান। অন্যদিকে চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি (রাম বিলাস), হাম এবং আরএলএম-ও তাদের প্রাপ্য মন্ত্রক পেয়েছে। যদিও রাজনৈতিক অন্দরমহলে গুঞ্জন, স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা দফতর নিয়ে এখনও টানাপোড়েন জারি।
আরও পড়ুনঃ Maoist Operation : “২০২৬-এর আগেই শেষ হয়ে যাবে লাল সন্ত্রাস!”—শাহের দাবির পর পরই অন্ধ্রের জঙ্গলে রক্তাক্ত অভিযান, এনকাউন্টারে খ*তম ৭ মাওবাদী!
নীতীশ কুমার প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতিতে এক অদম্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কখনও এনডিএ, কখনও আরজেডি—জোট পাল্টালেও বিহারের মুখ হিসেবে তিনি বারবার ফিরে এসেছেন। প্রথমবার মাত্র সাত দিনের মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও, আজ দশমবার শপথ নিয়ে জাতীয় রাজনীতির পাতায় তিনি তৈরি করলেন নতুন রেকর্ড। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়, বিজেপি-জেডিইউ-এলজেপির শক্তিশালী সমীকরণ এবং নতুন মন্ত্রিসভার বিস্তার—সব মিলিয়ে বিহারের আগামী পাঁচ বছরের রাজনীতি অনেকটাই নতুন পথে হাঁটতে চলেছে। এখন দেখার, এই অভিজ্ঞ নেতার দশম ইনিংস রাজ্যের উন্নয়নে কতটা নতুন গতি আনতে পারে।





