পাকা ধানে মই! ‘দানা’র জেরে ফের জলের তলায় চাষের জমি, জলে ভাসছে পাকা ফসল, চাষিদের মাথায় বজ্রাঘাত, ফের বাড়বে সবজির দাম!

ধান পেকেই গিয়েছিল। সঙ্গে পাক ধরেছিল নানান ফসলে। ধান কাটার সময় প্রায় আসন্ন। কিন্তু এমন সময় পাকা ধানে মই দিতে এল ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। আর এর কারণে ধান নষ্ট তো বটেই, বাকি নানান সবজিও এই মুহূর্তে জলের তলায়। মাথায় হায়ত চাষিদের।

দু’দিন আগেও যেখানে গোটা মাঠে হলুদ-সবুজ শস্যের বিচরণ ছিল, এখন সেই জমিই জলের নীচে। জমি দেখলে কান্না থামাতে পারছেন না চাষিরা। লঙ্কা, ফুলকপি, টমেটো সব গাছই জলের তলায়। মাঠ যেন আস্ত পুকুর। সবজিতে পচন ধরার জোগাড়।

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র কারণে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। গতকাল, শুক্রবার গোটা দিন দক্ষিণবঙ্গের নানান জেলায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। জলমগ্ন শহর কলকাতা। এরই সঙ্গে জল দাঁড়িয়েছে নানান চাষের জমিতেও। ফলে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায়। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চাষে। আর এর জেরে ফের সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। কিন্তু জোগান কম।

চাষের ক্ষতির জেরে এই মুহূর্তে হাহাকার বাঁকুড়ার সারেঙ্গা, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর, মেদিনীপুরের দাঁতন, মোহনপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা-কাঁথির উপকূলবর্তী এলাকা-সহ নানান গ্রামে। খারাপ অবস্থা দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলিতেও। নিউ টাউন লাগোয়া হাতিশালা, কোঁচপুকুর, সাতুলিয়াতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়ো চাষ হয়। সেখানেও জমিতে জল জমেছে। বৃষ্টির জেরে ভেবগে পড়েছে মাচা।

ভারী বৃষ্টির জেরে মাঠে মাঠে হাঁটু সমান জল জমে গিয়েছে। শীতকালের কথা ভেবে ভাঙড়ের দুটি ব্লকের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রবি শষ্যের চাষ করেছিলেন চাষিদের। তাদের এখন মাথায় হাত। তারা জানাচ্ছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠের উচ্ছে, পটল, লঙ্কা, ফুল কপি, ব্রকোলি, বাঁধা কপি, টম্যাটো, ক্যাপসিক্যামের গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। একটানা বৃষ্টিতে পালং, লেটুস চাষেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘বড় হচ্ছে, অন্যেরা অত্যাচার করবে তা হতে দিতে পারি না’, নির্যাতকদের হাত থেকে ‘বাঁচাতে’ মেয়েকে গলা টিপে খুন করলেন মা

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসেই বন্যা পরিস্থিতির কারণে নষ্ট হয়েছিল বিঘার পর বিঘা ফসল। সেই রেশ সামলে না উঠতেই ফের এক ধাক্কা। ফলের গ্রামে গ্রামে এখন হাহাকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

আরও অন্যান্য খবর