বিছানায় শুয়ে মেয়ে। কেউ দেখলে হয়ত ভাববে সে ঘুমোচ্ছে। মা ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বাবা এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরতেই বুঝতে পারেন, মেয়ের শরীরে প্রাণের একবিন্দুও অবশিষ্ট নেই। ঠাণ্ডা, নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে ছোট্ট প্রাণটা। এমন কাণ্ডে হতবাক সকলে।
জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ ঘোষ। স্ত্রী ও ১১ বছরের মেয়ে রাজন্যাকে নিয়ে সংসার তাঁর। সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে ঘুমোতে যান মা। কিন্তু সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেলেও দরজা খোলেন নি তিনি। ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া।
ফলে প্রতিবেশীরা খবর দেন ইন্দ্রজিৎবাবুকে। তিনি এসে ডাকলেও খোলা হয়নি দরজা। ফলে বাধ্য হয়ে খবর দেওয়া হয় টিটাগড় থানায়। পুলিশ এসে একতলার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। কিন্তু ভেতরে ঢুকে সকলে যা দেখেন, তাতে শিউড়ে ওঠেন সকলে। ইন্দ্রজিৎবাবু দেখেন, তাঁর মেয়ে নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে বিছানায়।
মৃতার মায়ের কথা বলে গোটা ঘটনাটি জানতে পারেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। চিকিৎসা চলছে তাঁর। ঘুমন্ত মেয়েকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছেন তিনি। মৃত মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, “বড় হচ্ছে তো। অন্যেরা ওর উপর অত্যাচার করবে। সেটা তো হতে দিতে পারি না! এখন আর কেউ ওর কিচ্ছু করতে পারবে না”।
ইন্দ্রজিৎবাবু জানান, তাঁর স্ত্রী অস্বাভাবিক আচরণ করলেও মেয়েকে সবসময় আগলে রাখতেন। মেয়ের সামান্য শরীর খারাপ হলেই অস্থিত হয়ে উঠতেন তিনি। মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রতিবেশীদের কথায়, ইদানিং নিয়মিত আর জি করের ঘটনার সমস্ত খবরাখবর দেখতেন ওই মহিলা। সেই থেকেই হয়ত মেয়েকে নিয়ে ভয় কাজ করছিল তাঁর মনে, অনুমান প্রতিবেশীদের। সেই কারণেই মেয়েকে সমাজ, নির্যাতকদের থেকে বাঁচাতে মেরে ফেলেছেন তিন।
আরও পড়ুনঃ আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেই থ্রেট কালচারের অভিযোগ, অনিকেতদের বিরুদ্ধে পাল্টা সংগঠন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের
বিশেষজ্ঞদের কথায়, স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকেন। সাধারণ মানুষই যেখানে আর জি করের ঘটনায় নিজেদের ঠিক রাখতে পারছেন না, সেখানে এই ঘটনার প্রভাব স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের উপর সাংঘাতিক প্রভাব ফেলতে পারে। আর এই ঘটনাই তার প্রমাণ।





