করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত উহানে এবার নতুন আতঙ্কের নাম হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (HMPV)। উহানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গত ১০ দিনে ৫২৯ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ৩০ জন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে শহরের সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রভাবে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। উহানে শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, এবং ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। স্কুলগুলোর বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভাইরাসের আরও বিস্তার রোধ করা যায়। উহানে সংক্রমণের এই বিপুল বৃদ্ধি শহরের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
চিনের বাইরে ভারত, মালয়শিয়া, ব্রিটেন, জাপান, কাজাকস্তান, হংকং সহ আরও বেশ কিছু দেশে এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। ভারতেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে কর্নাটক, গুজরাট, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের খবর মিলেছে। এই ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হওয়ার সাথে সাথে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিন থেকে এই ভাইরাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য চেয়েছে।
এদিকে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ানোর ফলে চিনে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ব্যাপক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। ওষুধের চাহিদা বাড়তেই এর কালোবাজারি শুরু হয়েছে, যেখানে একেকটি ওষুধের দাম ৪০ ডলার পেরিয়ে যাচ্ছে। উহানে অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, এইচএমপিভি ভাইরাসের অতিরিক্ত সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যেই WHO চিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে ভাইরাসের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে, যাতে একে মোকাবিলা করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ মালদায় তৃণমূল নেতা খুনে গ্রেফতার সভাপতি সহ আরও ২! পুরনো শত্রুতার জেরেই খুন? আশঙ্কা পুলিশের
এই পরিস্থিতিতে, বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করে সবাইকে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।





