দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে বিতর্কের মাঝেই নিজেকে জনপ্রিয় সিনেমার চরিত্র পুষ্পা রাজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমি পুষ্পারাজ, ঝুকেগা নেহি।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। অভিযোগ, তিনি ফলতায় জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে গিয়ে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দেন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এলাকায় কোনও রকম অশান্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জাহাঙ্গিরের লোকজন যদি হুমকি দেয়, তবে তার ফল ভালো হবে না।
এই ঘটনার পরেই পাল্টা আক্রমণে নামেন জাহাঙ্গির খান। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অজয় পাল শর্মা একজন অবজার্ভার মাত্র। তাঁর কোনও এক্তিয়ার নেই যে তিনি নিজে গিয়ে কাউকে ধমক দেবেন। কিছু বলার থাকলে তিনি এসপিকে বলবেন।” তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং বিজেপি এসব করাচ্ছে। এখানেই থেমে থাকেননি তৃণমূল প্রার্থী। নিজেকে পুষ্পা রাজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমরা পুষ্পা রাজ, ঝুকেগা নেহি। মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু ভয় পাব না।” তাঁর এই মন্তব্য কার্যত রাজনৈতিক বার্তাই বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি আরও বলেন, “দিল্লির পুলিশের চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। কতটা বাড়াতে পারে দেখা যাক, তারপর আমরা দেখব।”
জাহাঙ্গির খান দাবি করেন, তাঁকে ‘পলাতক’ বলা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভুলভাবে। তাঁর কথায়, “যে সময় অজয় পাল শর্মা আমার বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন আমি বাইরে ছিলাম। এরপরও আমি জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছি।” অর্থাৎ, তিনি নিজেকে এলাকায় সক্রিয় বলেই তুলে ধরতে চান। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। জাহাঙ্গিরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর এলাকার মহিলারা উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার মা-বোনেরা উত্তেজিত হচ্ছে। ওরা যদি এক হয়ে ঝাঁটাপেটা করে, তখন বোঝা যাবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
আরও পড়ুনঃ ভোটের ঝলমলে প্রচার শেষ, গাড়ি-বাইক ছেড়ে ফের সাইকেলে! রায়গঞ্জে সাধারণ জীবনেই ফিরলেন বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরী!
অন্যদিকে, অজয় পাল শর্মার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, তিনি তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। একজন পর্যবেক্ষকের কাজ নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি দেখা, কিন্তু সরাসরি গিয়ে এভাবে সতর্ক করা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ফলতা কেন্দ্র এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ি, অন্যদিকে রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে সেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা শান্তিপূর্ণ হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





