এক বছর দেশ বন্ধের ভাবনা ব্রিটিশ প্রশাসনের।

ব্রিটেন এক মাত্র দেশ যাঁরা এতদিন দেশবাসীকে ঘরবন্দি করার বিষয়টিকে তেমন আমল দিতে চাইনি, এবার তাঁরাই এখন দেশকে এক বছর তালাবন্ধ করার কথা ভাবছে। আমেরিকার মৃত্যুমিছিল পেরিয়েছে বাইশ হাজার। মৃত‍্যুর গতি এখন কিছুটা হলেও স্তব্ধ দাবি মার্কিন প্রশাসনের।

স্পেনও দাবি করেছে, দৈনিক মৃতের সংখ্যা এখন কমেছে। একই কথা জানাচ্ছে ইটালি, ফ্রান্সও। যার জন্য ইউরোপের কম ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি গৃহবন্দি থাকার নির্দেশিকা শিথিল করার কথা ভাবছে। এইসময় একমাত্র যে ব্রিটেন এখন দেশ এক বছর বন্ধের পরিকল্পনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেই কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সম্প্রতি সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তিন রাত আইসিইউয়ে কাটিয়েছেন। গত কাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বরিস জনসন বলেছেন, ‘ওঁদের জন্যই জীবন ফিরে পেলাম।’

তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা মণ্ডলীর বিশেষ বৈঠকে আজ মিলেছে এমনই ইঙ্গিত। পৃথিবী জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৮ লাখের উপরে। মৃত্যু ১ লক্ষ ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউরোপে সব চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ইটালির। ১৯,৮৯৯ জনের প্রাণ যাওয়ার পরে এ দেশে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে। স্পেনে মারা গিয়েছেন ১৭,৪৮৯ জন। ফ্রান্সে সংখ্যাটা ১৪,৩৯৩।

এর পর আজই বরিস ‘সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজ়রি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সিস’-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। শোনা গিয়েছে বৈঠকে জনসন জানিয়েছেন, এত দিন বাসিন্দাদের ঘুরে-বেরানো, মেলামেশায় নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার শয্যা এক-এক করে ভরতে থাকার পরে এবং মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ানোর পরে নতুন করে ভাবছে ব্রিটিশ প্রশাসন। বরিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাব ও রেস্তরাঁ বন্ধ না করলে এই সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না দেশে। আর লকডাউনের সময়কাল এক বছর পর্যন্ত হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরাও আপাতত স্কুল-কলেজ-সহ যে কোনও ধরনের জমায়েত দীর্ঘমেয়াদি ভাবে বন্ধ রাখার উপরে জোর দিচ্ছেন। বন্ধ রাখা হবে বাজার-দোকানও। তাতে দরিদ্র পরিবারগুলি কঠিন আর্থিক পরিস্থিতিতে পড়লেও কিছু উপায় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সরকার যদি বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়, তবেই দেশের মানুষ এর গুরুত্ব বুঝবে।’

আরও অন্যান্য খবর