এ যেন মড়ক লেগেছে! চীনের পর এবার করোনার ভয়াল হানা ইতালিতে। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে করোনা ভাইরাসের জেরে মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের। মৃতের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬৬ জন। চীনের পর করোনা আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে ইতালিতেই। নতুন করে আরও কয়েক হাজার জনের আক্রান্ত হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের আক্রান্ত হওয়ার খবরও মিলেছে। এবার ইউরোপকে করোনা ভাইরাসের উপকেন্দ্র বলে উল্লেখ করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
চীনের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি। সে দেশের বাসিন্দাদের কার্যত কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে, চীন থেকে ইতালিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে। ইউরোপের অন্য দেশগুলিতেও পরিস্থিতি সঙ্গীন।
এখনও পর্যন্ত বিশ্বের মোট ১৩২ টি দেশে ছড়িয়েছে সংক্রমণ। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার জন। মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার জনেরও বেশি। চীনের ইউহান শহরের পর এই ভাইরাসের করাল গ্রাসে পড়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ইতালি-ফ্রান্স ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও মৃত্যুর খবর আসছে। ইতালির পর স্পেনেও দ্রুত হারে থাবা বসাচ্ছে করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে সংক্রমণের হার বেড়েছে ৫০ শতাংশ। সংক্রমণ রুখতে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা, নামানো হয়েছে সেনা। এদিকে শনিবারই ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও ডেনমার্কের সীমান্ত সিল করা হয়েছে। জার্মানির নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। রোম ও গ্রিসে বন্ধ সমস্ত পর্যটনকেন্দ্র ও প্রার্থনাস্থল। রাস্তাঘাট কার্যত শুনশান।
বর্তমানে WHO-এর প্রধান টেডরোস জানিয়েছেন, চীনের পর ইউরোপেই সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। অন্যান্য দেশের তুলনায়, এমনকি চীনের থেকেও বেশি হারে এখন ইউরোপে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের হদিশ মিলছে প্রতিদিন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লড়াই করছে চীন প্রশাসন। যার ফলে ইউহানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও আস্তে আস্তে কমছে। তবে ইতালি ও ইরানে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। ভারতেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ।






