এইডস, সোয়াইন ফ্লু ও ম্যালেরিয়া-র ওষুধের মিশ্রণই কি করোনার ওষুধ? সুস্থ হচ্ছেন রোগীরাও

ইতিমধ্যেই ১২৪টি দেশে ছড়িয়ে গিয়েছে Covid-19। ৩২টি দেশে করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। করোনাকে বিশ্বব্যাপী অতিমারী বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘জয়পুরে ৬৯ বছরের বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাসের দেখা মিলেছিল। তাঁদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ঔষধ ব্যবহারে ক্রমশ সেরে উঠছেন দুজনেই। জ্বর নেই। শ্বাস নিতে অক্সিজেনের প্রয়োজনও পড়ছে না। আগামী আট – ন’দিনের মধ্যেই তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়ে দিয়েছে, শীঘ্রই এই ওষুধগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আনা হবে।

লোপিনাভির, রিটোনাভির, অসিলট্যামিভির, ক্লোরোকুইন এই চারটি ওষুধের মিশ্রণই প্রয়োগ করা হচ্ছে করোনার প্রতিষেধক রূপে। যার মধ্যে লোপিনাভির, রিটোনাভির এই দু’টি এইডসের মোকাবিলায় সেকেন্ড লাইন ড্রাগ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অসিলট্যামিভির ব্যবহার করা হয় সোয়াইন ফ্লু-র প্রতিষেধক রূপে। ক্লোরোকুইন ম্যালেরিয়ায় ব্যবহার করা হয়।

এই ওষুধেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো রয়েছেই। তবু, নিরুপায় হয়ে অনুমতি দিয়েছিলেন নোভেল করোনা আক্রান্ত সত্তর বছরের বৃদ্ধ ইতালীয় দম্পতি। তাঁদের উপর এইডস, সোয়াইন ফ্লু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক ওষুধ একযোগে প্রয়োগের। তাতেই বাজিমাৎ। এখন তারা ভাইরাসকে রুখে দিয়ে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছেন। অন্তত জয়পুরের চিকিৎসকরা তেমনই দাবি করেছেন। আর তাতেই আশায় বুক বেঁধেছে বাংলা তথা ভারতীয় চিকিৎসকমহল। তাঁদের কথায়, চিনের চিকিৎসকরাও এইডসের ওষুধ ব্যবহার করে আংশিক সাফল্য পেয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এইচআইভি এবং ইবোলার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবার জয়পুরের ডাক্তারবাবুরাও ফল পেলেন। তাই এবার সবাই চাইছেন পুরোদস্তুর একটা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হোক। তাহলে অনেকটাই স্বস্তি মিলবে বিশ্ববাসীর।

জয়পুরের চিকিৎসকদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে আইসিএমআর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন এই খবর দিয়ে জানিয়েছেন, ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ’ (আইসিএমআর)-এর অনুমোদনের ভিত্তিতে করোনা আক্রান্তদের শরীরে লোপিনাভির ও রিটোনাভির সংমিশ্রণ প্রয়োগ হয়েছে। জরুরিকালীন ভিত্তিতেই এই সংমিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই রোগীর সম্মতিতেই এই সংমিশ্রণ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এমনটাই মনে করছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস।

বিজ্ঞানী ও ভাইরোলজিস্টদের দাবি, অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল মিলেছে। তাতে ভাল ফল মিলেছে বলেও দাবি। এরপর জয়পুরের ডাক্তারবাবুরা এইডসের সঙ্গে সোয়াইন ফ্লু এবং ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও মিশিয়েছেন। তাতে আগের চেয়ে ভাল সাড়া মিলেছে বলে দাবি।

কমিউনিটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, এই চার ওষুধের (লোপিনাভির, রিটোনাভির, অসিলট্যামিভির, ক্লোরোকুইন) ‘কম্বিনেশন’ বাঁচিয়ে দিয়েছে ইতালীয় দম্পতিকে। কিন্তু এটাই করোনার অমোঘ ওষুধ, এটা বলা যাচ্ছে না। তার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে যেহেতু করোনার কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ নেই এবং এটি প্রাণঘাতী রোগের ক্ষেত্রে জয়পুরের তথ্যটি একটা বড় আশার আলো। তবে এই ওষুধ শুধু আইসিইউতে থাকা রোগীদের উপরই প্রয়োগ করা উচিত বলে জানান চিকিৎসকরা।

আরও অন্যান্য খবর