ব্রাজিলে মুখ থুবড়ে পড়ল চীনের প্রতিষেধক! ষাট শতাংশেরও কম সাধারণ কার্যকারিতা, আস্থা ভারতীয় Covishield-এ

ব্রাজিলে সম্ভাব্য করোনা প্রতিষেধকের ট্রায়ালে প্রাথমিক ফলাফলে উতরে গিয়েছিল চীন।তাদের তৈরি সম্ভাব্য প্রতিষেধকটি মানবশরীরে প্রয়োগের পক্ষে নিরাপদ বলে জানিয়ে ছিল সাও পাওলোর বুতানতান ইনস্টিটিউট। ব্রাজিলের বায়োমেডিক্যাল রিসার্ট সেন্টারগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ওই সংস্থা। তবে চীনের তৈরি প্রতিষেধকটি কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, তা জানতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে তারা। 

আর এবার সেই রিপোর্টেই ফেল করল চীনা প্রতিষেধক। চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক সংস্থাটি করোনাভ্যাক নামের ওই সম্ভাব্য প্রতিষেধকটি তৈরি করেছে। তার দু’টি ডোজই করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর বলে দাবি করেছিল ওই সংস্থা। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে এই প্রতিষেধকটির সাধারণ কার্যকারিতা ৬০% এরও কম।
যদিও বুতানতান ইনস্টিটিউটের দাবি এই করোনা প্রতিষেধকটি হালকা মামলার বিরুদ্ধে ৭৮% কাজ করছে। এবং গুরুতর ঘটনার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করতে সক্ষম। 
 
যদিও, ব্রাজিলের স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা প্রতিষেধকটির বিষয়ে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে এটিকে একটি ‘অসম্পূর্ণ প্রকাশ’ বলে দাবি করেন।  
 
এরপর‌ই ব্রাজিলিয়ান ওয়েবসাইট ইউএল‌ও’র তরফ থেকে দাবি করে জানানো হয় গতকাল বুতানতান ইনস্টিটিউটের তরফে কার্যকারিতা যে রেট প্রকাশ্যে আনা হয় তা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যবর্তী ছিল। ‌
 
অন্তর্বর্তীকালীন তথ্যের ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়া সোমবার এই প্রতিষেধকের জরুরী ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যা দেখায় যে এটি শুধুমাত্র ৬৫% কার্যকর। 
আর এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ভারত। তিনি জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ টিকার ডোজ চেয়েছেন। প্রসঙ্গত, ভারতের হাতে এখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দুটি অস্ত্র রয়েছে। Covaxin ও Covishield। বলসোনারো অবশ্য কোভিশিল্ড‌ই চেয়ে পাঠিয়েছেন। ব্রাজিলের ফিয়োক্রুজ বায়োমেডিক্যাল সেন্টার এখন জানিয়েছে, তারা কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাই কোভিশিল্ডের সরবরাহ‌ই তাঁরা আশা করছে।
 
চীনা প্রতিষেধকের আস্থা রাখতে পারছে না ব্রাজিলবাসীও‌। একইসঙ্গে প্রতিষেধক তৈরিতে ব্রাজিল সরকারের অনাগ্রহ জনরোষ বাড়িয়েছে। 
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়েই ভারত থেকে টিকা ব্রাজিলে পৌঁছতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। 
 
 

আরও অন্যান্য খবর