ডানা ছাঁটা শুরু অধিকারী পরিবারের! আজ শিশির অধিকারীকে সরানো হলো জেলা সভাপতির পদ থেকেও

যত বিধানসভা নির্বাচনের দিন এগোচ্ছে, তত‌ই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ২১বছরের সম্পর্ক ত্যাগ করে শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান যদি এখন‌ও পর্যন্ত বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে উত্তেজক পর্যায় হয়ে থাকে তবে এখন চলছে শাস্তি পর্যায়। হ্যাঁ! পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতি থেকে অধিকারী পরিবারের দাপট কমাতে উঠে পড়ে লেগেছে শাসক শিবির।

প্রসঙ্গত, শুভেন্দু দল বদলালেও বাকি দুই ছেলেকে নিয়ে তৃণমূল থেকে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর পিতা শিশির অধিকারী।

শুভেন্দু’র দলত্যাগের কিছুদিন পরই কাঁথি পুরসভার প্রশাসকের পদ থেকে সৌমেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে দেয় রাজ্যের পুর দফতর।

১লা জানুয়ারি সৌমেন্দু দাদা শুভেন্দুর হাত ধরেই তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। সেদিনই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ শিশির অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব পাবে। জবাব দেবেন মেদিনীপুরের মানুষ। আমি যখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম, অবিভক্ত মেদিনীপুরে একটাও নির্বাচিত পদ ছিল না। আমি যোগ দেওয়ার পর দলে দলে সকলে যোগ দিল। আর আমি এখন হলাম মীরজাফর! আমি হলাম বেইমান।’

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে শিশিরের এই আক্রমনাত্মক বক্তব্যের পর‌ই গতকাল দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ  থেকে সরিয়ে দেয় শাসক দল। নতুন চেয়ারম্যান করা হয় অখিল গিরিকে। তাঁর ছেলে সুপ্রকাশ গিরিকে কাঁথি পুর প্রশাসক বোর্ডে সদস্য করা হয়েছে।

আর আজ, শিশির অধিকারীকে সরানো হল জেলা সভাপতির পদ থেকেও। এই ঘটনার পর তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতার বিজেপিতে যোগদান শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে ভরা সভা থেকে শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, তাঁর ঘরেও পদ্ম ফুটবে। তিনি এমন দাবি করার পরদিনই বিজেপিতে যোগ দেন তাঁর ভাই সৌমেন্দু। গতকাল মুকুল রায়ও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শিশির অধিকারীর বিজেপিতে আসা শুধুই সময়ের অপেক্ষা। 

 

RELATED Articles