বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান, এবং সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে বহু হিন্দু নাগরিক নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, ধর্মীয় স্থানে আক্রমণ এবং চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই আবহে বাংলাদেশে হিন্দুদের অধিকারের জন্য লড়াই করা সংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দু অধিকার রক্ষার জন্য সরব ছিল। সংগঠনটির নেতারা নিয়মিতভাবে হিন্দু নিপীড়ন, মন্দির ধ্বংস এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে এই কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রশাসন থেকে শুরু করে মৌলবাদী গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন VHP-র নেতারা। ইতিপূর্বে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে কথা বলা চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এবার একই কারণে গ্রেফতার করা হলো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জনকণ্ঠের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ মার্চ ভোর রাতে বাগেরহাটের চিতলমারী থানা পুলিশ কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশের দাবি, তাঁর মোবাইল থেকে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সন্দেহজনক বৈঠকের ছবি ও কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের কার্যকলাপ দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছিল। তবে হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু। অভিযোগ ওঠে, সেই সভায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। এর জেরে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। সেই মামলার ভিত্তিতে ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আদালতে তোলা হয়। চিন্ময়ের সমর্থনে পথে নেমেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হন, এমনকি এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করছিল।
আরও পড়ুনঃ ৩৫ হাজার টাকায় ‘হিন্দুত্ববাদী’ বিশ্লেষক নিয়োগ! ২০২৬ ভোটের আগে গোপন খেলায় বিজেপি?
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই হিন্দু মন্দিরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। চাকরি থেকে জোর করে পদত্যাগ করানো, ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতার এবং এবার কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, এটা সংখ্যালঘুদের কণ্ঠ রোধ করার প্রচেষ্টা। অন্যদিকে, কট্টরপন্থীরা ইসকন নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। ভারতের একাধিক সংগঠন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীতির বিরোধিতা করেছে।





