Iran w*ar update : ভারতের নৌমহড়ায় অংশ নেওয়া ইরানি রণতরী ধ্বংসের দাবি, মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় উ*ত্তপ্ত বিশ্বরাজনীতি—এই ঘটনার জেরে কি মধ্যপ্রাচ্যের যু*দ্ধ আরও ভয়ং*কর মোড় নিতে চলেছে?

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে উঠছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। একের পর এক সামরিক হামলা, পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং কূটনৈতিক উত্তেজনার ফলে গোটা অঞ্চলেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি শুধু আঞ্চলিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে। এই উত্তেজনার আবহেই সামনে এল একটি নতুন ঘটনা, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি বড় সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসে। খবর অনুযায়ী, ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র অঞ্চলে। প্রথমদিকে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ধীরে ধীরে জানা যায়, একটি শক্তিশালী সাবমেরিন থেকে টর্পেডো নিক্ষেপ করে ওই রণতরীকে আঘাত করা হয়। হামলার ফলে জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে ডুবে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে একটি বিশেষ তথ্য। যে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ধ্বংস হয়েছে, সেটি সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশ নিয়েছিল বলে জানা গেছে। বিশাখাপত্তনম বন্দরে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌমহড়া ‘মিলন’-এ অংশ নিয়েছিল সেই রণতরী। এই মহড়ায় বিশ্বের বহু দেশের নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করেছিল। ফলে ওই জাহাজকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। ঘটনার সময় জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ছিলেন বলে জানা যায়।

হামলার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাহাজে থাকা বহু নাবিককে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্তত ৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাকি অনেকের খোঁজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পর আমেরিকার সামরিক নেতৃত্বের তরফ থেকেও বক্তব্য সামনে আসে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। তাদের দাবি, চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই ইরানের একাধিক নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অরিজিৎ সিংয়ের সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই, একই ঘোষণা শ্রেয়া ঘোষালেরও? নারীদের অবমাননা, এবার আর গান গাইবেন না জনপ্রিয় গায়িকা!

এই ঘটনার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশের বিদেশমন্ত্রী সাইদ আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিনা সতর্কবার্তায় এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এটিকে “নৃশংস আক্রমণ” বলে উল্লেখ করে বলেন, যে যুদ্ধজাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে সেটি ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি”। তাঁর কথায়, এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের জন্য গভীর অনুশোচনায় ভুগবে। এই হুঁশিয়ারির পরেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles