নতুন বছর শুরু হতেই পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে। ইরান ও ইজরায়েলের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন ও কুয়েতের একাধিক এলাকা। নিরাপত্তার স্বার্থে বহু দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উড়ান স্থগিত থাকায় হাজার হাজার যাত্রী বিদেশের মাটিতে আটকে পড়েছেন। ভারতীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ বহু মানুষ কাজ বা ভ্রমণের কারণে এই অঞ্চলে অবস্থান করছেন।
এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই দুবাইয়ে আটকে পড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ছেলের স্কুলে ছুটি থাকায় ছেলে ইউভানকে নিয়ে কয়েক দিনের অবকাশযাপনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। আচমকা এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বাড়ে পরিবারের। তবে জানা গিয়েছে, শুভশ্রী ও ইউভান দুজনেই নিরাপদে রয়েছেন এবং পরিচিতদের সঙ্গেই আছেন। তবুও দূরদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রিয়জন আটকে থাকায় উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ছে না পরিবারের।
পরিচালক রাজ চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুবাইয়ে তাঁদের বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন, তাঁরাই আপাতত শুভশ্রী ও ইউভানের দেখাশোনা করছেন। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন রাজ, খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ রয়েছে, তবে পরিচিত মানুষের সহায়তা থাকায় কিছুটা নিশ্চিন্ত তিনি। আপাতত সরকারি সহযোগিতা নেওয়ার কথা ভাবছেন না বলেও জানিয়েছেন রাজ। তাঁর আশা, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বিমান পরিষেবা চালু হলেই দেশে ফিরতে পারবেন শুভশ্রী।
আরও পড়ুনঃ সমুদ্রতটে স্বামী, পাশে নেই স্ত্রী! বিয়ের পর থেকেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন, দোলে একা বিদেশযাত্রা নীলের! তৃণা না থাকায় প্রশ্নে সরগরম টলিপাড়া, কী বলছে ঘনিষ্ঠ মহল?
শনিবার দুবাইয়ে পৌঁছে পাম জুমেইরার একটি হোটেলে উঠেছিলেন শুভশ্রী। পরের দিন হোটেলের অদূরে একটি বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে আপাতত হোটেলের ভেতরেই অবস্থান করছেন তাঁরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পর্যটকদের অযথা বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত।
যুদ্ধের আবহে সাধারণ মানুষের জীবন যে কতটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তারই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে এই ঘটনাগুলিতে। একদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা। শুভশ্রীদের মতো আরও বহু ভারতীয় পরিবার এখন অপেক্ষা করছেন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার। কবে আকাশপথ খুলবে, কবে প্রিয়জনেরা নিরাপদে দেশে ফিরবেন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন সকলে। পশ্চিম এশিয়ার এই অশান্ত সময় যেন দ্রুত কাটে, সেটাই এখন সবার প্রার্থনা।





