গত কয়েক সপ্তাহেই মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর ঘোষিত ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের বিষয়টি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। শহুরে পরিসরে ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে এমন বিতর্ক যখন ঠান্ডা হয়নি, ঠিক সেই সময় আবার নতুন করে আলোচনায় সল্টলেক। এখানে তৈরি হতে চলেছে রাম মন্দির—এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মানুষের মনে ফের সেই একই প্রশ্ন জেগেছে- শহরের বুকে ধর্মীয় উত্তেজনার পর্ব কি সত্যিই শেষ হবে?
রামনবমীর দিন বিধাননগরের বুকে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা হতেই শহরের নানা প্রান্তে ব্যানার দেখা যায়—করুণাময়ী, সিটি সেন্টার, স্টেডিয়াম মোড়—সব জায়গায়ই ‘রাম মন্দির নির্মাণ’ সংক্রান্ত পোস্টার লাগানো হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের নজর আবারও ধর্মীয় নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে ঘুরেছে। অনেকেই জানতে চান, এত বড় উদ্যোগ বাস্তবে কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
এই উদ্যোগের বিষয় সঞ্জয় পয়রা জানিয়েছেন, রাম মন্দিরের শিলান্যাস শুধু সল্টলেকের কোনও স্থানীয় অনুষ্ঠান নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষজন উপস্থিত থাকবেন। তাঁর কথায়, মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। জায়গার অভাব হবে না বলেই দাবি তাঁর। কারণ, ইতিমধ্যেই বহু মানুষ জমি দিতে বা আর্থিক সাহায্য করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
সঞ্জয় পয়রার বক্তব্য, “কেউ মূর্তি দেবেন বলেছেন, কেউ জমি, কেউ অর্থ দেবেন।” ফলে এই প্রকল্প যে কেবল একদল মানুষের উদ্যোগ নয়, সমাজের নানাদিক থেকে সমর্থন মিলছে—তা স্পষ্ট। তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন। মুর্শিদাবাদের ঘটনা দেখিয়েছে ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে মতভেদ কত সহজেই রাজনৈতিক উত্তেজনায় রূপ নেয়। তাই সল্টলেকে রাম মন্দিরের ঘোষণা সামনে আসতেই অনেকেই ভাবছেন, এই নির্মাণ কি নতুন কোনও বিতর্ক ডেকে আনবে, নাকি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে?
আরও পড়ুনঃ Brigade Parade Ground: ব্রিগেডে হরিনামের মহাসমারোহ, মমতার সমর্থক মতুয়াদের উদ্যোগ!
মন্দিরের সঠিক অবস্থান, নকশা বা সরকারি অনুমতির বিষয়গুলি এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, ঠিক সময়ে সব তথ্য ঘোষণা করা হবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—মুর্শিদাবাদের বাবরি মসজিদ বিতর্কের পর রাজ্যে ধর্মীয় আবহ যে আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে, এমন পরিস্থিতিতে সল্টলেকের এই উদ্যোগ কি শহরে নতুন সৌহার্দ্যের বার্তা দেবে, নাকি আরও এক দফা রাজনৈতিক তরজা তৈরি হবে? এখন নজর রামনবমীর দিনের দিকে—সেখানেই বোঝা যাবে শহরের পরিবেশ কোন পথে এগোবে।





