Abhishek Banerjee:“যদি দেখো বিজেপির কর্মকর্তা দশটার বেশি ফর্ম জমা দিতে আসে, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজাও”— মেদিনীপুরের মঞ্চ থেকে বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের !

রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ নতুন নয়, তবে ভোটের আগে সংগঠনের অন্দরমহলকে যেভাবে বার্তা দিতে শোনা গেল, তা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মেদিনীপুরের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন—আসন্ন দিনগুলোতে বুথই হবে লড়াইয়ের আসল জায়গা। কথার শুরুটা ছিল সহজ, প্রায় নিরীহ প্রশ্ন দিয়ে। কিন্তু সেই প্রশ্নের আড়ালেই ধীরে ধীরে উঠে এল রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, যা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

মঞ্চে উঠে প্রথমেই তিনি জানতে চান, কারা কারা নিয়মিত বুথে বসে কাজ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সভাস্থলজুড়ে উঠল হাত। সেই ছবি দেখিয়ে অভিষেক বোঝান, তৃণমূলের শক্তি ঠিক কোথায়। এরপর প্রসঙ্গ টানেন বাঁকুড়ার তাংলডাঙরার ঘটনার। সেখানে ফর্ম ৭ ভর্তি গাড়ি আটকানোর উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কীভাবে সংগঠনের তৎপরতায় কলকাতায় পৌঁছনোর আগেই সেই উদ্যোগ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, শেষ মুহূর্তে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির চেষ্টার দিকেই।

অভিষেক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দশটির বেশি ফর্ম জমা দিতে পারেন না। ফর্ম জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমাও ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন। তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পেরে সময় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এই জায়গাতেই বুথস্তরের কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি—কে, কখন, কতগুলি ফর্ম নিয়ে আসছে, সবকিছু খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন।

এরপরেই আসে সেই বক্তব্য, যা সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিষেক বলেন, চলতি মাসের ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ তারিখ যদি দেখা যায় বিজেপির কোনো কর্মকর্তা ইআরও অফিসে দশটির বেশি ফর্ম জমা দিতে আসছেন, তবে তার জবাব দিতে হবে ভদ্রভাবেই। কিন্তু সেই ভদ্রতার সঙ্গে থাকবে ‘ডিজে’। শুধু ডিজে নয়, রবীন্দ্রসংগীতও বাজানোর কথা বলেন তিনি। কথার ছলে এই ‘গান শোনানোর’ পরামর্শ যে আসলে রাজনৈতিক ‘দাওয়াই’-এর ইঙ্গিত, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ Beldanga Protest Journalist Attack: “আমাদের মেরেছে, আর পুলিস দাঁড়িয়ে দেখেছে”—বেলডাঙায় মবের তাণ্ডবে রক্তা*ক্ত সাংবাদিক সোমা! প্রশ্নের মুখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা!

সভা শেষে তাঁর বক্তব্য আরও কঠোর হয়। অভিষেক বলেন, “সব পাপের হিসাব হবে।” তালিকা ধরে ধরে তিনি নাম পড়ার কথাও উল্লেখ করেন—কে আগে সিপিএম করত, আর এখন বিজেপিতে রয়েছে, সেই সব তথ্য তাঁদের কাছে আছে বলেই দাবি করেন তিনি। বিজেপির নেতারা শেষ পর্যন্ত কাউকে বাঁচাতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ। সব মিলিয়ে, মেদিনীপুরের এই সভা শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি—বুথ-রাজনীতির লড়াইয়ে কর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর