Beldanga Protest Journalist Attack: “আমাদের মেরেছে, আর পুলিস দাঁড়িয়ে দেখেছে”—বেলডাঙায় মবের তাণ্ডবে রক্তা*ক্ত সাংবাদিক সোমা! প্রশ্নের মুখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা!

সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত—এই প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু যখন সেই প্রশ্ন রক্তাক্ত বাস্তবতায় বদলে যায়, তখন তা শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সকাল থেকে যে উত্তাল পরিস্থিতির ছবি সামনে এসেছে, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছিল দৃশ্যপট।

ভিন রাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙার মহেশপুর এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। ঝাড়খণ্ডের বিশ্রামপুরে ফেরিওয়ালার কাজ করা সুজাপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলাউদ্দিন সেখের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের দাবি—এটি আত্মহত্যা নয়, খুন। সেই অভিযোগকে সামনে রেখেই মৃতদেহ নিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। রাস্তায় জ্বালানো হয় টায়ার, বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় রেললাইন অবরোধে, থমকে যায় একাধিক ট্রেন।

এই উত্তাল পরিবেশে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর চিত্র সাংবাদিক। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আচমকাই আক্রমণ চালায়। চিত্র সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়, ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয় জোর করে। সোমা মাইতির ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, টোটো ঘিরে ধরে চলে বেধড়ক মারধর। সাংবাদিকের অভিযোগ, সাহায্যের জন্য পুলিশকে জানালেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পরে জানা যায়, সোমা মাইতির মাথায় সিটি স্ক্যান করাতে হবে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে।

ঘটনার নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের উপর হামলা না করার আবেদন জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মবের মধ্যে ঢোকা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যদিও বিরোধীরা এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয়। কংগ্রেস ও বিজেপি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তৃণমূলের মদতের অভিযোগ আনে। জাতীয় মহিলা কমিশনের এক সদস্যও সরব হন, দাবি করেন—রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh Hindu : সিলেটে হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন, বারবার হামলার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কতটা নিরাপদ?

বেলডাঙার বিধায়ক অবশ্য ক্ষমা চেয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—দিনের আলোয়, পুলিশের উপস্থিতিতে একজন মহিলা সাংবাদিক কীভাবে মারধরের শিকার হন? কেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখল পুলিশ? এই হামলার নেপথ্যে কারা, আদৌ কি চিহ্নিত হবে মবের মাথারা? বেলডাঙার ঘটনায় শুধু একজন সাংবাদিক নন, আহত হয়েছে মানুষের জানার অধিকারও। এখন দেখার, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আদৌ মিলবে কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর