ছাত্র রাজনীতির মাঠে যেন নতুন দিশা নিচ্ছে দেশের দুই প্রধান ভাবধারার সংঘাত। যে লড়াই এতদিন দিল্লি বা হায়দরাবাদের মতন ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এবার ধীরে ধীরে ছড়াচ্ছে বাংলার মাটিতেও। ছাত্র রাজনীতিকে ঘিরে নতুন করে চর্চায় উঠে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে বহুদিন ধরে বামপন্থীদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল, সেই ‘যদুবংশ’-এ কি এবার ভাঙন ধরবে?
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু পড়াশোনার নয়, আজ রাজনৈতিক মতাদর্শের পীঠস্থান হয়ে উঠেছে। প্রজন্মের অভিমত গড়ে তুলছে ছাত্র সংসদ। এবং এই সংসদ নির্বাচনেই এখন বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস। অতীতে যেসব জায়গায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাপট ছিল, সেই জায়গাতেই ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে এবিভিপি। এই প্রবাহ কি এবার এসে পৌঁছাল যাদবপুরেও?
সম্প্রতি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করেছে এবিভিপি। যদিও সভাপতিসহ মূল তিনটি পদে বাম ছাত্র জোট জিতেছে, তবু ৪২টি কাউন্সিলর আসনের মধ্যে ২৩টিতেই জয় এবিভিপি-র, সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদক পদ। এই ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেই দাবি করেছে সংগঠনটি। এবার সেই সাফল্যকে পাথেয় করে তাদের লক্ষ্য যাদবপুর। এবিভিপির দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক অনিরুদ্ধ সরকারের কথায়, “জেএনইউ হয়েছে, এবার যাদবপুরও হবে।”
যদিও যাদবপুরে এবিভিপির জমি এখনও মজবুত নয়, তবুও রামনবমীতে পুজো করে তারা বার্তা দিয়েছে—‘এই দুর্গেও প্রবেশ সম্ভব’। রামের ছবি লেগে গেল লেনিন-মার্ক্সের ছবির পাশে। অথচ প্রতিবাদে পথে নামেনি বামেরা। কারণ? ভিতরে ভিতরে চলছে দ্বন্দ্ব। জেএনইউতে আইসা ও ডিএসএফ মিলে জোট করলেও এসএফআই তাতে সামিল হয়নি। ফলত, বামেদের মূল তিনটি পদে জয় এলেও ব্যবধান অল্প। বিশ্লেষণ বলছে, এসএফআই যদি জোটে থাকত, তাহলে এবিভিপি এতটা এগোতে পারত না। এই ‘গোঁয়ার্তুমি’-কেই এখন দায়ী করছেন অনেক বাম নেতা।
আরও পড়ুনঃ Pakistan : আতঙ্কেই কি হাসপাতালে? ভারতের কঠোর বার্তার পর গোপনে সিএমএইচে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!
রামনবমীতে যাদবপুরে পুজো হওয়া, ক্যাম্পাসে এবিভিপির উপস্থিতি এবং ছাত্র রাজনীতিতে বিভাজনের এই মুহূর্ত সব মিলিয়ে তারা নিজেদের দিকেই হাওয়া ঘুরছে বলে মনে করছে। এবিভিপি বলছে, “যাদবপুরে আমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করব। এবার পেরেছি রামনবমী করতে, সামনেও পারব।” যদিও এসএফআই এবং যাদবপুরের প্রাক্তন নেতারা বলছেন, “যাদবপুর আর জেএনইউ এক নয়, এখানে বামেদের ভিত অনেক গভীর।” তবু বাস্তব বলছে—জেএনইউতে এক বছরে পালটে গেছে পরিস্থিতি। ঐশী ঘোষের জেতার এক বছর পরেই এবিভিপি-র উত্থান। সেই ‘অভিঘাত’ এবার বাংলার বামপন্থী ঘাঁটি যাদবপুরের দিকে ধেয়ে আসছে কি না, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।






