Bangladesh Violence : বাংলাদেশের হিংসার ভিডিও, বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক—অমিত মালব্যর মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের!

দু’দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা হলেও, সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা অশান্তির ছবি এপার বাংলাতেও আলোড়ন তোলে। বিশেষ করে যখন সেই অশান্তির দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা শুধু কৌতূহল নয়, উদ্বেগও বাড়ায়। সাম্প্রতিক দিনে বাংলাদেশের হিংসার ভিডিও ঘিরে ঠিক তেমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর সেই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা, অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফের অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-সহ একাধিক শহরে শোক মিছিল, ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয়। সন্ধ্যার পর সেই বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দপ্তরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমন উত্তপ্ত আবহেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ভিডিও।

এই ভিডিওগুলিই শেয়ার করেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তাঁর পোস্টে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে যে ধরনের মৌলবাদী হিংসা দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও নাকি তেমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে এই সম্ভাব্য পরিস্থিতির তুলনা টানেন এবং ২০২৬-এর পরও একই সরকার থাকলে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক ঝড়।

অমিত মালব্যর এই পোস্টকে ‘প্ররোচনামূলক’ বলে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, একটি আন্তর্জাতিক সংকটকে ব্যবহার করে বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তির আবহ তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এই ধরনের পোস্ট আইনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক, তাই পুলিশের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিকে এক করে দেখানো সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : সোশ্যাল মিডিয়ায় একচেটিয়া আধিপত্য! শীর্ষ ১০ ‘মোস্ট লাইকড’ পোস্টের ৮টিই মোদীর!

একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থানও স্পষ্ট করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ওপার বাংলায় সংখ্যালঘু, সংবাদমাধ্যমকর্মী ও ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন্দ্র সরকারের দায়িত্ব। যেহেতু বিষয়টি আন্তর্জাতিক, তাই অবিলম্বে কেন্দ্রকে অবস্থান জানাতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, মানবিক প্রশ্নে তৃণমূল সবসময় স্পষ্ট অবস্থান নেবে। তবে রাজনৈতিক লাভের জন্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা বা উসকানিমূলক তুলনা টানা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, বাংলাদেশে অশান্তির রেশ শুধু সীমান্তে আটকে নেই, তার প্রভাব পড়ছে রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চেও।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles