হঠাৎ করেই প্লেব্যাক গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং। বলিউড ও বাংলা—দু’দিকেই যাঁর কণ্ঠ দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের আবেগে জড়িয়ে, সেই গায়কের এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কেরিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে এমন ঘোষণা অনেককেই ভাবনায় ফেলে দেয়। আর ঠিক সেই সময় থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন, নানা ব্যাখ্যা। কেউ বললেন সৃষ্টিশীল ক্লান্তি, কেউ আবার টেনে আনলেন রাজনীতির প্রসঙ্গও।
অরিজিতের প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণার পরেই কিছু মহলে একটি খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—তিনি নাকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। বিশেষ করে কিছু অনলাইন পোস্ট ও মন্তব্যে এই জল্পনাকে আরও উসকে দেওয়া হয়। সামনেই রাজ্য নির্বাচন, ফলে একজন জনপ্রিয় শিল্পীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যেই আলোচনায় উঠে আসে। তবে গায়কের ভক্তদের বড় অংশই এই খবরে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, অরিজিতের সঙ্গীতই তাঁর পরিচয়, সেখানে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগুক—এমনটা তাঁরা চান না।
এমনিতে অরিজিৎ সিংয়ের নিজের নামে কোনো অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট নেই। ‘WhoamI’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই মাঝেমধ্যে তিনি নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন। সেখানেই এক ভক্ত সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন—তিনি কি সত্যিই রাজনীতিতে আসছেন? এই প্রশ্নের জবাবে আর নীরব থাকেননি অরিজিৎ। সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় তিনি লেখেন, খবর বানিয়ে দেওয়াই কিছু মানুষের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে যোগ করেন, এ ধরনের কথাবার্তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এই উত্তরেই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায়, বিজেপিতে যোগদানের গুঞ্জন নিছকই জল্পনা।
এর আগেই, গত ২৭ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে অরিজিৎ জানিয়েছিলেন, তিনি আর নতুন কোনো প্লেব্যাক কাজ নেবেন না। সেই পোস্টে শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, দীর্ঘদিনের এই যাত্রা এখানেই থামাচ্ছেন। পরে ‘WhoamI’ অ্যাকাউন্টেই তিনি সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, একই ধরনের গান, একই ধাঁচের কাজ করতে করতে তিনি একঘেয়েমিতে ভুগছেন। সৃষ্টিশীলভাবে বাঁচতে গেলে নিজেকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ RG KAR case : দেড় বছর পরেও প্রশ্নের উত্তর নেই, আরজি কর নির্যাতিতার জন্মদিনে রাজপথে বিচার চেয়ে ফের বিক্ষোভ জুনিয়র চিকিৎসকদের!
সব মিলিয়ে অরিজিৎ সিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। প্লেব্যাকের বাণিজ্যিক চাপ থেকে সরে এসে তিনি এখন স্বাধীনভাবে গান তৈরি করতে চান। জিয়াগঞ্জের এই শিল্পীর কাছে সঙ্গীতই শেষ কথা—নতুন ধাঁচ, নতুন ভাবনা নিয়ে নিজেকে আরও একবার আবিষ্কার করাই এখন তাঁর লক্ষ্য। সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক যে কতটা, এই ঘটনায় তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল।





