Viral video : ভাইরাল ভিডিওতে অস্বস্তিতে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক! গ্রাহকের সঙ্গে চিৎকার-দুর্ব্যবহার, ‘ঠাকুর হু ম্যায়’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নেটদুনিয়া!

ব্যাঙ্কে কাজ মানেই দায়িত্ব, সংযম আর গ্রাহকের প্রতি ভদ্রতা—এই ধারণাটাই এতদিন স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হতো। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সেই বিশ্বাসের জায়গায়। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখার ভেতরের দৃশ্য দেখে অনেকেই বিস্মিত, আবার অনেকেই ক্ষুব্ধ। ভিডিওটি দেখে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা—ব্যাঙ্কের মতো পরিষেবা মূলক প্রতিষ্ঠানে এমন আচরণ আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়েই এখন মূল বিতর্ক।

জানা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক শাখায় এক মহিলা কর্মী ও এক পুরুষ গ্রাহকের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কী কারণে সেই বচসা শুরু হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ কথাবার্তার জায়গা থেকে বিষয়টি বেরিয়ে গিয়ে তা রীতিমতো চিৎকার-চেঁচামেচিতে পরিণত হয়, যা ব্যাঙ্কের পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেই সবচেয়ে বেশি আপত্তি তৈরি করেছে ওই মহিলা কর্মীর কিছু মন্তব্য। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ঠাকুর’। অভিযোগ উঠেছে, ওই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের জাতিগত পরিচয়কে সামনে এনে গ্রাহকের সঙ্গে একটি স্পষ্ট বিভাজন টানার চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, ওই গ্রাহকের উদ্দেশে একাধিক আপত্তিকর ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন ওই মহিলা কর্মী এবং সামনে রাখা একটি ল্যাপটপের দিকে আঙুল দেখিয়ে রীতিমতো তেড়ে যাচ্ছেন তিনি।

ঘটনার সময় ওই মহিলা কর্মীর পাশে আরও দুই মহিলা সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও অনুযায়ী, তাঁরা বারবার তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, থামাতে চান উত্তেজনা। কিন্তু কোনও চেষ্টাই কাজে আসেনি। ক্রমাগত চিৎকার, উত্তেজিত ভঙ্গি এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেই যেতে দেখা যায় অভিযুক্ত কর্মীকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, ওই মহিলা কর্মীর নাম আস্থা সিং। যদিও এই দাবির সরকারি সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ Arijit Singh– BJP : ভাইরাল জল্পনা না কি সাজানো খবর? বিজেপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নিজেই মুখ খুললেন অরিজিৎ সিং!

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলেও জানা যায়নি। তবে নেটিজেনদের বড় অংশ একবাক্যে বলছেন, গ্রাহকের আচরণ যেমনই হোক না কেন, জাতিগত পরিচয় টেনে এনে এমন ভাষা ব্যবহার কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আপাতত থামার লক্ষণ নেই, বরং পরিষেবা ক্ষেত্রের কর্মীদের আচরণবিধি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই ঘটনা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর