“কেন্দ্রীয় শাসকদলের অংশ হয়ে নিজের পরিচয় ‘গান’কে হারিয়ে ফেলেছিলাম…দিদি আমাকে খুঁজে দিয়েছেন!” ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে সাহসের নতুন সুর, রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেয়ে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়!

পেশা হোক বা প্যাশন, বাবুল সুপ্রিয়ের জীবনের মূল সুর গান। রাজনৈতিক ব্যস্ততা কখনও তাঁর সঙ্গীতপ্রেমকে ম্লান করতে পারেনি। বরং মঞ্চ বদলেছে, কিন্তু মনের ভেতরের শিল্পী একই রয়ে গেছেন। ২০১৪ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। সাংসদ এবং মন্ত্রী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে কম নয়। তবু সুযোগ পেলেই ফিরে যান মাইক্রোফোনের কাছে। কারণ তাঁর কথায়, গানই তাঁর মন ভাল রাখার একমাত্র ভরসা।

২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ঘোষণার পর স্বভাবতই জল্পনা শুরু হয়েছে, রাজ্যসভা না রাজ্যরাজনীতি কোনটি তাঁর মূল লক্ষ্য। জবাবে বাবুল সুপ্রিয় জানান, লোকসভা ও রাজ্যসভার কাজের পার্থক্য তিনি ভালভাবেই জানেন। মন্ত্রী হিসেবে থাকার সুবাদে দুই কক্ষেই উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজ, সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন।

মনোনয়নের পর প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাবুল। তাঁর কথায়, দিদির আস্থা ও স্নেহের কারণেই তিনি আইটি সেক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে পেরেছেন। প্রশাসনিক কাজের চাপ থাকলেও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। রাজনীতির কঠিন বাস্তবের মাঝেও তিনি সব সময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে চেয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, দায়িত্ব যত বড়ই হোক, মানুষের সঙ্গে সংযোগটাই আসল শক্তি।

তবে রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর আর এক পরিচয় শিল্পী। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে গান গাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন বলেই খোলাখুলি স্বীকার করেছেন বাবুল। তিনি বলেন, গান তাঁর মানসিক শান্তির জায়গা। রাজনৈতিক মতভেদ বা ব্যস্ততার ভিড়েও সুরের কাছে ফিরলে তিনি নিজেকে খুঁজে পান। এই ভারসাম্যই তাঁকে আলাদা করে তোলে। প্রশাসনিক দায়িত্ব আর সঙ্গীতচর্চা, দুই দিকই তিনি সমান গুরুত্ব দিয়ে সামলাতে চান।

আরও পড়ুনঃ মার্কিন-ইরান সংঘাতের ছায়া ভারতে, সতর্কবার্তা কেন্দ্রের, রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ

রাজ্যসভায় মনোনয়ন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় হতে চলেছে। তবে গান থেকে সরে যাওয়ার কোনও ইচ্ছেই নেই তাঁর। বরং তিনি মনে করেন, সঙ্গীত তাঁকে আরও সংবেদনশীল ও দৃঢ় করে তোলে। আগামী দিনে সংসদের উচ্চকক্ষে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সুরের জগতেও সক্রিয় থাকবেন তিনি। রাজনীতি ও শিল্প, এই দুই মেরুকে মিলিয়ে নিজের পথেই এগোতে চান বাবুল সুপ্রিয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর