উত্তরবঙ্গের পাহাড় মানেই আবেগ, পরিচয় আর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়ার ইতিহাস। ভোটের আগে সেই পুরনো ইস্যুই আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শিলিগুড়ির এক বৈঠক ঘিরে নতুন করে জোরালো হয়েছে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। কারও চোখে আশার আলো, কারও মনে সংশয়—সব মিলিয়ে রাজনীতির অঙ্কে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গোর্খা জনমানস।
সোমবার শিলিগুড়িতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাঁকে গোর্খা টুপি পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বৈঠকে পাহাড়ের নানান সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়—প্রশাসনিক জট, উন্নয়নের ঘাটতি, কর্মসংস্থানের অভাব থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ২০০৭ সালের আন্দোলনের পর জিটিএ গঠন হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলেই মত প্রতিনিধিদের একাংশের।
তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বহুদিনের দাবি ‘গোর্খাল্যান্ড’। প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলাদা রাজ্য সম্ভব না হলে অন্তত উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হোক। এই দাবির রাজনৈতিক তাৎপর্য কম নয়, কারণ রাজ্য ভাগের প্রসঙ্গ বরাবরই স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে সরাসরি প্রতিশ্রুতি না দিলেও, দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বৈঠক শেষে বলেন, প্রত্যেকের নিজের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব
বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি বিধায়ক নীরজ জিম্বা। তাঁর বক্তব্য, গোর্খারা উপস্থিত থাকলে গোর্খাল্যান্ডের প্রসঙ্গ উঠবেই। অন্যদিকে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, আলোচনার বিস্তারিত তাঁর জানা নেই, তবে ভারসাম্য বজায় রেখেই পাহাড় সমস্যার সমাধান খুঁজবে দল। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, পাহাড় ইস্যুতে দল কৌশলী অবস্থানই বজায় রাখতে চাইছে।
আরও পড়ুনঃ “কেন্দ্রীয় শাসকদলের অংশ হয়ে নিজের পরিচয় ‘গান’কে হারিয়ে ফেলেছিলাম…দিদি আমাকে খুঁজে দিয়েছেন!” ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে সাহসের নতুন সুর, রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেয়ে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়!
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রে বিজেপির সাফল্য এসেছে পাহাড়ের সমর্থনের জোরে। তবু দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভের কথাও শোনা গেছে বারবার। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে পাহাড় সমস্যার সমাধানে। সেই আবহেই নিতিন নবীনের এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটের আগে পাহাড়ের সমীকরণ যে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





