পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা দেখা গেল এলাকা জুড়ে। গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে ঘিরে কখনও আন্দোলন, কখনও দলবদল—দার্জিলিং পাহাড়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। তারই মাঝে হঠাৎ এক সিদ্ধান্তে ফের নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
কার্শিয়াঙের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দল তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন। দলের পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু। পাহাড়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বরাবরই সরব এই নেতা আগে বিধানসভায় ধর্না দিয়েছেন, এমনকি গণভোটের দাবিও তুলেছিলেন। কিন্তু গত দু’বছর ধরেই নিজের দল বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং আসনে বিজেপি যখন আবারও রাজু বিস্তা-কে প্রার্থী করে, তখন তার বিরোধিতা করে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ান বিষ্ণুপ্রসাদ। সেই সময় থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকে। যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল। অসুস্থতার সময় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন শুভেন্দু। তবু শেষ পর্যন্ত বিজেপি শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি।
এই দলবদলের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে আসন্ন রাজ্যসভা ভোটকে কেন্দ্র করে। বিধায়কদের ভোটেই রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। বিষ্ণুপ্রসাদের যোগদানের ফলে রাজ্যে বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৬৪-তে। ফলে সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে বিজেপির অঙ্কে চাপ বাড়ল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। বিশেষ করে পাহাড়ে সংগঠন মজবুত করার প্রশ্নে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Modi on AI: ডেটার অধিকার জনগণের, প্রযুক্তি হবে সবার কল্যাণে—আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এআই নিয়ে ভারতের মানব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন মোদী!
অন্যদিকে বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, এতে দলের কোনও রাজনৈতিক ক্ষতি হবে না। তাঁর বক্তব্য, বহুদিন ধরেই বিষ্ণুপ্রসাদ নিজেকে দল থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং নির্দল প্রার্থী হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভোটও পাননি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিষ্ণুপ্রসাদ একসঙ্গেই ভরাডুবি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পাহাড়ের রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।





