নতুন শক্তির পথে ভারত! তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিনের সঙ্গে নৌবাহিনীতে যুক্ত ‘আইএনএস তারাগিরি’!

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এখন সামরিক শক্তিই হয়ে উঠছে কূটনীতির বড় হাতিয়ার। বিশেষ করে সমুদ্রপথে আধিপত্য বজায় রাখা এখন যে কোনও শক্তিধর দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতও সেই দৌড়ে পিছিয়ে নেই, বরং একের পর এক আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম যুক্ত করে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

শুক্রবার এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ভারত নৌবাহিনীতে যুক্ত করল একাধিক শক্তিশালী যুদ্ধযান। যদিও পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়, তবুও প্রতিরক্ষা মহলের বক্তব্যে স্পষ্ট, এটি শুধুমাত্র একটি সংযোজন নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকে বড় এক অগ্রগতি।

প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, ভারতের তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন এখন সম্পূর্ণ কার্যকর। এই ধরনের সাবমেরিন, যাকে এসএসবিএন বলা হয়, সমুদ্রের গভীরে থেকে দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। বিশাখাপত্তনমে নির্মিত এই সাবমেরিনে কে-১৫ এবং কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা, যার পাল্লা যথাক্রমে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার এবং ৩০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’কে আরও শক্তিশালী করবে, যা যেকোনও পারমাণবিক হুমকির জবাব দিতে সক্ষম।

আধুনিক যুদ্ধনীতিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রতিরোধ ক্ষমতা। স্থলভাগে থাকা পারমাণবিক ঘাঁটি ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিনকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। ফলে এই ধরনের সাবমেরিন দেশের নিরাপত্তায় এক অদৃশ্য ঢাল হিসেবে কাজ করে। ভারতের এই পদক্ষেপ তাই শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নেবে।

আরও পড়ুনঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নয়া মোড়! সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে তলব ইডি-র, ভোটের আগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি!

একই দিনে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি’। মুম্বইয়ের মাজাগন ডকে তৈরি এই আধুনিক যুদ্ধজাহাজ প্রজেক্ট ১৭এ-র অন্তর্গত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। পারস্য উপসাগর থেকে মালাক্কা প্রণালী, সব জায়গায় ভারতের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে এই সংযোজন। সব মিলিয়ে, সমুদ্রপথে ভারতের শক্তি এখন আগের চেয়ে অনেকটাই বাড়ল যা শত্রুদের জন্য স্পষ্ট বার্তা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles